শিশুর উচ্চ তাপমাত্রা: এই সহজ ঘরোয়া টিপসগুলো মিস করবেন না!

webmaster

아기 체온 낮추는 법 - **Prompt: Comforting a Feverish Child**
    A tender, realistic indoor scene featuring a South Asian...

ছোট্ট সোনার জ্বর হলে বাবা-মায়েদের মনটা কেমন যেন ছটফট করে, তাই না? আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, যখন আমার বাবুর গা গরম হত, তখন মনে হত দুনিয়ার সব চিন্তা যেন মাথায় এসে ভর করছে। সামান্য জ্বর হলেও কেন জানি একটা অদৃশ্য ভয় কাজ করে। বিশেষ করে যখন রাত গভীর হয় আর বাচ্চাটা ঘুমের মধ্যে অস্বস্তি বোধ করে, তখন মনে হয় কী করলে এই ছোট্ট শরীরটা আরাম পাবে!

ইন্টারনেটে কত তথ্যই তো পাওয়া যায়, কোনটা সঠিক আর কোনটা শুধু বাড়তি চিন্তা বাড়ায়, তা বোঝা মুশকিল।কিন্তু বিশ্বাস করুন, সঠিক জ্ঞান আর কিছু সহজ টিপস জানা থাকলে এই পরিস্থিতি সামলানো অনেক সহজ হয়ে যায়। জ্বর কমানোর প্রচলিত কিছু পদ্ধতি আছে, আবার নতুন কিছু ঘরোয়া উপায়ও ইদানীং খুব জনপ্রিয় হচ্ছে যা সত্যিই কাজে দেয়। শুধু ওষুধ খাওয়ানোই একমাত্র সমাধান নয়, অনেক সময় ছোট্ট কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমেও শিশুর আরাম নিশ্চিত করা যায়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, সেই ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা রাখা। আমাদের সবারই তো একটাই চাওয়া, আমাদের শিশুরা যেন সবসময় সুস্থ আর হাসিখুশি থাকে!

চলুন, এই উদ্বেগের সময়গুলোকে কিভাবে সহজে পার করা যায়, তা আজ আমরা বিস্তারিতভাবে জেনে নেব।আর্টিকেলটিতে শিশুর জ্বর কমানোর সেরা উপায়গুলো সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হবে।

বাচ্চাদের জ্বর কেন হয় আর কখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়?

아기 체온 낮추는 법 - **Prompt: Comforting a Feverish Child**
    A tender, realistic indoor scene featuring a South Asian...
যখন ছোট্ট সোনাটার গা গরম হয়, তখন প্রথমেই আমাদের মনে আসে, ‘কেন জ্বর এলো?’ আসলে বাচ্চাদের জ্বর হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা কোনও ভাইরাস সংক্রমণের কারণে হয়, যেমন সর্দি-কাশি, ফ্লু বা অন্য কোনো সাধারণ সংক্রমণ। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমার ছোটবেলায় যখন প্রথম জ্বর হয়েছিল, তখন মা খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। পরে ডাক্তার বলেছিলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবে তৈরি হতে শুরু করে, তাই তারা একটু বেশিই সংক্রমণ প্রবণ হয়। আবার অনেক সময় দাঁত ওঠার কারণেও হালকা জ্বর আসতে পারে, যেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। তবে সব জ্বর কিন্তু এক রকম নয়। কখন জ্বরটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, সেটা বোঝা খুব জরুরি। ধরুন, যদি আপনার বাচ্চার বয়স তিন মাসের কম হয় আর তার ১০১° ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর হয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ এই বয়সে সামান্য জ্বরও গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া, যদি বাচ্চার জ্বর ১০৪° ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়, শরীরে র‍্যাশ দেখা যায়, খিঁচুনি হয় বা বাচ্চা অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তাহলে একদম দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক। এইসব ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের একটু সচেতন থাকতে হয়, কারণ ছোট্ট শরীরগুলো নিজেদের কষ্ট স্পষ্টভাবে বলতে পারে না, তাদের কষ্টের লক্ষণগুলো আমাদেরই বুঝে নিতে হয়।

ভাইরাল জ্বর বনাম ব্যাকটেরিয়াল জ্বর: পার্থক্য বুঝবেন কিভাবে?

সাধারণত, বেশিরভাগ বাচ্চাদের জ্বরই ভাইরাসের কারণে হয়। এই ধরণের জ্বর সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে নিজে থেকেই কমে যায়। যেমন, সর্দি-কাশি বা ফ্লু-এর সাথে যে জ্বর আসে, সেগুলো সাধারণত ভাইরাল হয়। কিন্তু ব্যাকটেরিয়াল জ্বর একটু ভিন্ন হতে পারে। মেনিনজাইটিস, ইউটিআই (Urinary Tract Infection) বা নিউমোনিয়ার মতো কিছু গুরুতর সংক্রমণ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, যা অবশ্যই চিকিৎসার প্রয়োজন। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে আছে, একবার আমার ভাগ্নির জ্বর হয়েছিল, আর সেটা সহজে কমছিল না। পরে দেখা গেল, তার ইউটিআই হয়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন, যদি জ্বর হঠাৎ করে খুব বেশি বেড়ে যায়, বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। সাধারণত, ভাইরাল জ্বরে নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, গলা ব্যথা থাকে, যা ব্যাকটেরিয়াল জ্বরে নাও থাকতে পারে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

কখন জ্বর চিন্তার কারণ নয়: স্বাভাবিক লক্ষণগুলো চিনুন

সব জ্বরই কিন্তু ভয়ের কারণ নয়। অনেক সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কোনও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় জ্বর আসে, যা আসলে একটা ভালো লক্ষণ। মানে শরীর তার কাজ করছে!

যেমন, শিশুরা যখন টিকা নেয়, তখনও হালকা জ্বর আসতে পারে। এটা টিকার একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আমার এক বন্ধুর বাচ্চা টিকা নেওয়ার পর তার জ্বর এসেছিল, আর সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমি তাকে আশ্বস্ত করে বললাম, “চিন্তা করিস না, এটা একদম স্বাভাবিক।” সাধারণত, জ্বর যদি ১০২° ফারেনহাইট এর নিচে থাকে এবং বাচ্চা যদি হাসিখুশি থাকে, খেলাধুলা করে, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় পান করে, তাহলে সাধারণত খুব বেশি চিন্তার কারণ থাকে না। সে ক্ষেত্রে, ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে বাচ্চার আরাম নিশ্চিত করা যেতে পারে। তবে বাবা-মা হিসেবে আমাদের মন তো মানতে চায় না, তাই না?

তবুও শান্ত থাকতে হবে আর লক্ষণগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

জ্বর কমানোর কিছু সহজ ঘরোয়া টিপস যা আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন

Advertisement

বাচ্চাদের জ্বর হলে সবসময় যে ওষুধ খাওয়াতে হবে তা কিন্তু নয়। অনেক সময় কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেও বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করা যায় এবং তাকে স্বস্তি দেওয়া যায়। আমি নিজে দেখেছি, যখন আমার বাবুটার জ্বর হত, তখন শুধু প্যারাসিটামল খাইয়েই কাজ হত না, আরও কিছু জিনিস করতে হত যাতে সে আরাম পায়। এসব ছোট ছোট জিনিসগুলোই তখন খুব কাজে দিত। যেমন, হালকা গরম জলে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে বাচ্চার শরীর মোছানো, যাকে আমরা “স্পঞ্জ বাথ” বলি। এটা শরীরের তাপমাত্রা কমাতে খুব কার্যকর। তবে পানি যেন খুব ঠান্ডা না হয়, কারণ তাতে শিশুর শরীর কেঁপে উঠতে পারে, যা হিতে বিপরীত হতে পারে। হালকা উষ্ণ জলই সবচেয়ে ভালো। আবার পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার দেওয়াটাও খুব জরুরি। ডিহাইড্রেশন জ্বরের সময় একটি বড় সমস্যা, তাই ঘন ঘন বুকের দুধ, ফর্মুলা, জল বা ফলের রস খাওয়ানো উচিত। আমার মনে আছে, একবার আমার বাচ্চা ডিহাইড্রেশন হয়ে খুব নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন, জ্বরের সময় শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যায়, তাই তরল খাবার দিতেই হবে।

স্পঞ্জ বাথ: সঠিকভাবে করার উপায় ও উপকারিতা

স্পঞ্জ বাথ হলো জ্বর কমানোর একটি দারুণ ঘরোয়া উপায়। তবে এটি সঠিকভাবে করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে, হালকা গরম জল নিন। জল যেন কুসুম গরম হয়, ঠাণ্ডা বা অতিরিক্ত গরম না। এবার একটি নরম কাপড় বা তোয়ালে সেই জলে ভিজিয়ে নিন, ভালো করে নিংড়ে জল ঝরিয়ে নিন যাতে কাপড় থেকে টপ টপ করে জল না পড়ে। তারপর এই ভেজা কাপড় দিয়ে বাচ্চার কপাল, ঘাড়, বগল, কুঁচকি এবং হাত-পা আলতো করে মুছে দিন। এই জায়গাগুলোতে বড় রক্তনালী থাকে, তাই এই স্থানগুলো মোছালে দ্রুত তাপমাত্রা কমে। আমার এক আত্মীয়ের বাচ্চা যখন জ্বরে ভুগছিল, তখন তাকে স্পঞ্জ বাথ দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি শিখিয়েছিলাম। সে বলেছিল, “জ্বর কমানোর জন্য এটা সত্যিই ম্যাজিকের মতো কাজ করে।” এই প্রক্রিয়াটি কিছুক্ষণ পর পর পুনরাবৃত্তি করতে পারেন, যতক্ষণ না বাচ্চার তাপমাত্রা কিছুটা কমে। স্পঞ্জ বাথ দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন, বাচ্চার যেন ঠাণ্ডা না লাগে। তাই একটি করে অঙ্গ মুছবেন এবং হালকা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেবেন।

পর্যাপ্ত তরল খাবার নিশ্চিত করুন: ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা

জ্বরের সময় বাচ্চাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে তরল বেরিয়ে যায়, যা ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে। ডিহাইড্রেশন হলে বাচ্চা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জ্বর কমাতেও দেরি হয়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার খাওয়ানোটা খুবই জরুরি। যদি আপনার বাচ্চা বুকের দুধ খায়, তাহলে তাকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ান। ফর্মুলা দুধ পানকারী শিশুদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ঘন ঘন ফর্মুলা দিন। এছাড়া, পানি, ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS), ফলের রস বা পাতলা স্যুপও দিতে পারেন। তবে চিনিযুক্ত পানীয় বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানীয় এড়িয়ে চলুন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমার বাচ্চা যখন জ্বর নিয়ে খেতে চাইত না, তখন আমি তাকে ছোট ছোট চুমুকে জল বা ফলের রস দিতাম। এমনকি আইসক্রিমও দিয়েছিলাম, কারণ যেকোনো উপায়ে তরল তার শরীরে প্রবেশ করাটা জরুরি ছিল। এই সময়ে জোর করে কঠিন খাবার না খাইয়ে তরল খাবারের উপর জোর দেওয়া উচিত, কারণ এটি বাচ্চার হজমেও সাহায্য করে।

কখন বুঝবেন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি?

বাচ্চাদের জ্বর হলে বাবা-মা হিসেবে আমাদের মনটা অস্থির হয়ে ওঠে। কিন্তু কখন শুধু ঘরোয়া উপায়ে ভরসা না রেখে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাওয়া উচিত, সেটা বোঝা খুব জরুরি। আমার মনে আছে, একবার আমার ছেলের হঠাৎ করে জ্বর খুব বেড়ে গিয়েছিল, আর সে একদম নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। তখন আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। এমন কিছু স্পষ্ট লক্ষণ আছে, যা দেখলে বুঝতে হবে যে আর অপেক্ষা করা ঠিক নয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেমন, যদি বাচ্চার বয়স তিন মাসের কম হয় এবং তার জ্বর হয়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। এই বয়সে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে, তাই যেকোনো জ্বরই গুরুতর হতে পারে। এছাড়া, যদি জ্বর ১০৪° ফারেনহাইট বা তার বেশি হয় এবং কোনোভাবেই না কমে, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ: যা উপেক্ষা করা যাবে না

কিছু লক্ষণ আছে যা দেখলে বাবা-মা হিসেবে আমাদের অ্যালার্ট হয়ে যাওয়া উচিত। এগুলোকে কখনোই উপেক্ষা করা যাবে না। আমার এক বন্ধুর বাচ্চার জ্বর হয়েছিল, আর সে ভেবেছিল সাধারণ সর্দি-কাশি। কিন্তু পরে দেখা গেল তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ায় সে বিপদ থেকে বেঁচেছিল। এরকম কিছু লক্ষণ হলো:* শ্বাসকষ্ট: যদি বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, দ্রুত শ্বাস নেয় বা শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের পাঁজর ভেতরে ঢুকে যায়।
* ত্বকে র‍্যাশ: জ্বরের সাথে শরীরে যদি কোনো নতুন বা অস্বাভাবিক র‍্যাশ দেখা যায়।
* খিঁচুনি: জ্বরের সাথে যদি খিঁচুনি হয়, তবে এটি জরুরি অবস্থা।
* অতিরিক্ত নিস্তেজ ভাব: যদি বাচ্চা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঘুমিয়ে থাকে, জাগানো কঠিন হয় বা কোনোভাবেই খেলতে না চায়।
* ঘন ঘন বমি বা ডায়রিয়া: যদি জ্বর থাকাকালীন বাচ্চা ঘন ঘন বমি করে বা ডায়রিয়া হয়, যা ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে।
* ঠোঁট বা নখ নীল হওয়া: এটি অক্সিজেনের অভাবের লক্ষণ হতে পারে।এইসব লক্ষণ দেখলে এক মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে কী কী তথ্য প্রস্তুত রাখবেন?

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে কিছু তথ্য গুছিয়ে রাখলে চিকিৎসকের পক্ষে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা সহজ হয়। আমি যখন আমার বাচ্চাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই, তখন সবসময় এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখি।

তথ্যের প্রকার প্রস্তুত রাখার বিবরণ
জ্বরের শুরু কখন জ্বর শুরু হয়েছিল, সময় এবং তারিখ।
তাপমাত্রা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত উঠেছিল এবং কখন।
অন্যান্য লক্ষণ জ্বরের সাথে কাশি, সর্দি, বমি, ডায়রিয়া, র‍্যাশ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ ছিল কিনা।
ওষুধ জ্বরের জন্য কোনো ওষুধ দিয়েছেন কিনা এবং কত মাত্রায়।
বাচ্চার আচরণ বাচ্চা কি আগের মতোই খেলছে, খাচ্ছে, নাকি নিস্তেজ হয়ে আছে।
মেডিকেল হিস্টরি বাচ্চার কোনো পূর্ব অসুস্থতা বা এলার্জি আছে কিনা।

এই তথ্যগুলো চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এবং আপনার বাচ্চার সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

সঠিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রা পরিমাপ এবং কখন ওষুধ দেবেন?

বাচ্চার জ্বর হলে প্রথমেই যেটা মনে আসে, তা হলো জ্বর মাপব কীভাবে? আর কখন ওষুধ দেবো? আমার নিজের প্রথম বাচ্চার জ্বর হলে, থার্মোমিটার ধরা আর জ্বর মাপা নিয়ে বেশ ধন্দে ছিলাম। মনে হত, কোনটা ঠিক পদ্ধতি?

এখন তো অনেক ধরনের থার্মোমিটার পাওয়া যায়, যেমন ডিজিটাল থার্মোমিটার, কানের থার্মোমিটার, কপালে লাগানোর থার্মোমিটার। প্রতিটি থার্মোমিটারের ব্যবহারের নিয়ম একটু ভিন্ন হতে পারে। ডিজিটাল থার্মোমিটার সাধারণত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং ব্যবহার করা সহজ। বগলের নিচে, মুখে বা মলদ্বারে তাপমাত্রা মাপা যেতে পারে। তবে শিশুদের জন্য বগলের নিচে বা মলদ্বারে তাপমাত্রা মাপাটাই বেশি প্রচলিত। মলদ্বারে তাপমাত্রা নিলে সবচেয়ে সঠিক রিডিং পাওয়া যায়, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই পদ্ধতিটি একটু অস্বস্তিদায়ক হতে পারে। তাই বেশিরভাগ বাবা-মা বগলের নিচের পদ্ধতিই বেছে নেন। তাপমাত্রা মাপার পর যদি দেখেন যে জ্বর আছে, তখন প্রশ্ন আসে, কখন ওষুধ খাওয়াবো?

Advertisement

বিভিন্ন থার্মোমিটারের ব্যবহার ও সঠিক তাপমাত্রা পরিমাপ পদ্ধতি

থার্মোমিটার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানাটা জরুরি। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সঠিক পদ্ধতি না জানলে ভুল রিডিং আসতে পারে, যা বাবা-মাকে আরও চিন্তায় ফেলে দেয়।* ডিজিটাল থার্মোমিটার (বগলের নিচে): থার্মোমিটারটি চালু করুন। তারপর থার্মোমিটারের মেটালিক টিপটি বাচ্চার বগলের মাঝখানে এমনভাবে রাখুন যাতে টিপটি ত্বকের সংস্পর্শে থাকে এবং হাত দিয়ে থার্মোমিটারটি ভালোভাবে ধরে রাখুন। থার্মোমিটার বিপ শব্দ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সাধারণত, এই পদ্ধতিতে প্রাপ্ত রিডিংয়ে ১ ডিগ্রি যোগ করলে সঠিক তাপমাত্রা পাওয়া যায়।
* ডিজিটাল থার্মোমিটার (মলদ্বারে): এটি সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি, তবে কিছুটা সংবেদনশীল। থার্মোমিটারের অগ্রভাগে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে দিন। এবার বাচ্চাটিকে চিৎ করে শুইয়ে পা দুটি তুলে ধরে, থার্মোমিটারটি ১-২ সেন্টিমিটার আলতো করে প্রবেশ করান। বিপ শব্দ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
* কানের থার্মোমিটার: কানের থার্মোমিটারের অগ্রভাগ সাবধানে বাচ্চার কানের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে বোতাম চাপুন। এটি দ্রুত ফলাফল দেয়, তবে ছোট শিশুদের কানে ঠিকমতো প্রবেশ করানো কঠিন হতে পারে।
* কপালের থার্মোমিটার: এই থার্মোমিটার কপালে ধরে তাপমাত্রা মাপা হয়। এটি দ্রুত এবং সহজ পদ্ধতি হলেও, কানের বা ডিজিটাল থার্মোমিটারের মতো সঠিক নাও হতে পারে।যে থার্মোমিটারই ব্যবহার করুন না কেন, ব্যবহারের আগে অবশ্যই নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে নেবেন।

জ্বরের ওষুধ: কখন, কতটুকু এবং কোন ক্ষেত্রে সতর্কতা

জ্বরের ওষুধ খাওয়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। সাধারণত, প্যারাসিটামল (Paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বাচ্চাদের জ্বরের জন্য ব্যবহার করা হয়। আমার ডাক্তার সবসময় বলেন, “ওষুধের ডোজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কখনোই আন্দাজে ওষুধ দেবেন না।”* প্যারাসিটামল: এটি ছোট শিশুদের জন্য নিরাপদ এবং বহুল ব্যবহৃত। বাচ্চার ওজন এবং বয়স অনুযায়ী ডোজ নির্ধারিত হয়। সাধারণত, প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর দেওয়া যেতে পারে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডোজের বেশি দেওয়া যাবে না।
* আইবুপ্রোফেন: ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটিও ওজন ও বয়স অনুযায়ী ডোজ নির্ধারিত হয় এবং প্রতি ৬-৮ ঘণ্টা অন্তর দেওয়া যেতে পারে। তবে, ডিহাইড্রেশন বা কিডনির সমস্যা থাকলে আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলা উচিত।সতর্কতা:
* শিশুদের অ্যাসপিরিন (Aspirin) কখনোই দেবেন না, কারণ এটি রেই সিনড্রোমের (Reye’s Syndrome) ঝুঁকি বাড়ায়, যা মারাত্মক হতে পারে।
* একসাথে দুটি ভিন্ন ধরণের জ্বর কমানোর ওষুধ (যেমন প্যারাসিটামল এবং আইবুপ্রোফেন) ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
* ওষুধ খাওয়ানোর সময় সঠিক ডোজিং সিরিঞ্জ বা ড্রপার ব্যবহার করুন এবং বোতলের নির্দেশাবলী সাবধানে অনুসরণ করুন।জ্বরের ওষুধ মূলত বাচ্চার স্বস্তি বাড়ানোর জন্য দেওয়া হয়, এটি জ্বর সারিয়ে তোলে না। তাই জ্বর কমানোর পাশাপাশি বাচ্চার আরাম নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়াটাও জরুরি।

বাচ্চার স্বস্তি নিশ্চিত করতে পোশাক ও পরিবেশের ভূমিকা

아기 체온 낮추는 법 - **Prompt: Gentle Sponge Bath for a Baby**
    A brightly lit, realistic indoor scene in a modern bat...

বাচ্চার জ্বর হলে তাদের আরাম নিশ্চিত করাটা আমাদের প্রথম কাজ, তাই না? আমার মনে পড়ে, একবার আমার ছোট বোন জ্বরে খুব ছটফট করছিল। মা তখন তাকে অতিরিক্ত কাপড় পরিয়ে রেখেছিলেন, ভেবেছিলেন এতে হয়তো ঠান্ডা লাগবে না। কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়েছিল, তার জ্বর আরও বেড়ে গিয়েছিল। পরে ডাক্তার বলেছিলেন, জ্বর হলে শরীর থেকে তাপ বের হতে দেওয়া উচিত, তাই অতিরিক্ত পোশাক পরানো ঠিক নয়। পরিবেশ কেমন হবে, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা হওয়া উচিত নয়। একটি আরামদায়ক ও শান্ত পরিবেশ শিশুকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। ঘরের বাতাস যেন সতেজ থাকে, এর জন্য জানালা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সরাসরি বাতাস বাচ্চার গায়ে না লাগে।

হালকা পোশাক পরিধান: জ্বরের সময় সঠিক নির্বাচন

জ্বর হলে বাচ্চার পোশাক হালকা এবং ঢিলেঢালা হওয়া উচিত। সুতির কাপড় সবচেয়ে ভালো, কারণ এটি বাতাস চলাচল করতে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে তাপ বের হতে দেয়। আমার ডাক্তার সবসময় বলেন, “জ্বরের সময় শিশুকে এমন পোশাক পরাবেন না যা তাকে আরও গরম করে তোলে।” শীতকালেও অতিরিক্ত ভারী পোশাক না পরিয়ে হালকা সুতির পোশাক পরানো উচিত এবং প্রয়োজনে একটি হালকা কাঁথা বা চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময়ও হালকা পোশাক পরানো উচিত, যাতে বাচ্চা আরামে ঘুমাতে পারে এবং শরীরের তাপ স্বাভাবিকভাবে কমে আসে। এতে ঘাম হলে শরীর দ্রুত ঠাণ্ডা হতে পারে, যা জ্বর কমানোর একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘাম শুকিয়ে বাচ্চা আবার ঠাণ্ডা না লেগে যায়।

ঘরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ: তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল

বাচ্চার ঘরের পরিবেশ জ্বরের সময় তাদের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের তাপমাত্রা ২০-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৮-৭২ ফারেনহাইট) এর কাছাকাছি রাখা ভালো। ঘর খুব বেশি গরম হলে বাচ্চার অস্বস্তি হবে এবং জ্বর কমতে দেরি হতে পারে। আবার খুব বেশি ঠাণ্ডা হলেও ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার ভয় থাকে। আমি সবসময় খেয়াল রাখি, আমার বাচ্চার ঘরে যেন সরাসরি সূর্যের আলো না আসে বা অতিরিক্ত গরম না হয়। প্রয়োজনে ফ্যান বা এসি ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সরাসরি বাচ্চার গায়ে বাতাস না লাগে তা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের আর্দ্রতা ঠিক রাখাটাও জরুরি। শুকনো বাতাসে বাচ্চার নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা কাশি বাড়তে পারে। প্রয়োজনে একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও, ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা উচিত। আবদ্ধ ঘরে জীবাণু বেশি ছড়ায়। তাই দিনে কয়েকবার ঘরের জানালা খুলে তাজা বাতাস আসতে দিন, তবে বাচ্চা যাতে সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

জ্বর চলাকালীন বাচ্চার খাবার ও পানীয় কেমন হওয়া উচিত?

বাচ্চাদের জ্বর হলে তাদের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। মনে হয়, এ সময়ে কী খাওয়াবো আর কী খাওয়াবো না! আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, জ্বরের সময় বাচ্চারা সাধারণত খেতে চায় না, এটা খুব স্বাভাবিক। তাদের রুচি চলে যায়, আর শরীরও দুর্বল থাকে। কিন্তু এই সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টি আর হাইড্রেশন খুব জরুরি। তাই জোর করে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা না করে, তাদের পছন্দসই হালকা এবং পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত। আমি যখন আমার বাচ্চার জ্বর হত, তখন তাকে জোর করে খাওয়াতাম না। বরং ছোট ছোট পরিমাণে ঘন ঘন খাবার দিতাম, যাতে তার হজমেও সমস্যা না হয়। ডাক্তার বলেছিলেন, “জ্বরের সময় শরীরের পুষ্টি চাহিদা বাড়ে, কিন্তু হজম ক্ষমতা কমে।” তাই এমন খাবার দিতে হবে যা সহজেই হজম হয় এবং শরীরকে শক্তি যোগায়।

Advertisement

সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার: কী খাওয়াবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন?

জ্বরের সময় বাচ্চার জন্য এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা সহজে হজম হয় এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর।* মুরগির স্যুপ: এটা খুবই পুষ্টিকর এবং ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করে। হালকা মশলা দিয়ে তৈরি স্যুপ বাচ্চার জন্য খুব উপকারী।
* খিচুড়ি বা জাউ: নরম ভাত, ডাল আর সবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি বা জাউ হজম করা সহজ এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়।
* ফল ও ফলের রস: আপেল, কলা, পেয়ারা বা পেঁপের মতো ফল বা ফলের রস ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ফলের রস এড়িয়ে চলুন।
* দই: দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস হজমে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
* সেদ্ধ ডিম: প্রোটিনের ভালো উৎস এবং সহজপাচ্য।যা এড়িয়ে চলবেন: ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত খাবার, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড এবং শক্ত খাবার, যা হজম করা কঠিন।

পর্যাপ্ত হাইড্রেশন: জল, ওআরএস ও অন্যান্য তরল পানীয়ের গুরুত্ব

জ্বরের সময় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়, তাই ডিহাইড্রেশন রোধ করতে পর্যাপ্ত তরল পান করা অত্যন্ত জরুরি। আমার ডাক্তার বারবার জোর দেন যে, “জ্বরের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জল।”* জল: বিশুদ্ধ জল পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট চুমুকে ঘন ঘন জল দিন।
* ওআরএস (Oral Rehydration Solution): যদি বমি বা ডায়রিয়া থাকে, তাহলে ওআরএস ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে। এটি শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া লবণ ও খনিজ পুনরুদ্ধার করে।
* ডাবের জল: এটি ইলেক্ট্রোলাইটের একটি প্রাকৃতিক উৎস এবং খুব স্বাস্থ্যকর।
* ফলের রস: পাতলা ফলের রস (যেমন আপেল বা কমলা) ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।
* বুকের দুধ বা ফর্মুলা: যদি বাচ্চা বুকের দুধ খায়, তবে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যান। ফর্মুলা দুধ পানকারী শিশুদেরও নিয়মিত ফর্মুলা দিন।মনে রাখবেন, তরল খাবারের পরিমাণ যেন পর্যাপ্ত হয়, কারণ এতে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায় এবং বাচ্চার তাপমাত্রা কমাতেও সাহায্য করে।

জ্বরের সময় বাবা-মায়েদের মানসিক প্রস্তুতি ও করণীয়

বাচ্চার জ্বর হলে বাবা-মায়েদের যে টেনশন হয়, তা কেবল তারাই বোঝেন যারা এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। আমার নিজের যখন প্রথম বাচ্চা হয়েছিল, তখন ওর সামান্য জ্বর হলেই মনে হত যেন দুনিয়ার সব বিপদ আমার উপর এসে পড়েছে। ঘুম হারাম হয়ে যেত, শুধু মনে হত কীভাবে বাচ্চাটাকে সুস্থ করব। এই সময়টায় মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা এবং সঠিক কাজগুলো করা খুব জরুরি। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকাটা বেশি দরকার। কারণ আপনার টেনশন বাচ্চার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা তার সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতির মোকাবেলা করাটাই সবচেয়ে ভালো। নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে বাচ্চার প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা এই সময়ে খুব প্রয়োজন। আসলে বাবা-মায়ের ধৈর্য আর ভালোবাসা এই কঠিন সময়ে বাচ্চার সবচেয়ে বড় শক্তি।

শান্ত থাকুন ও ধৈর্য ধরুন: বাচ্চার প্রতি সহানুভূতি

বাচ্চার জ্বর হলে শান্ত থাকাটা খুব জরুরি। জানি, এটা বলা যতটা সহজ, করা ততটাই কঠিন। কিন্তু আপনার অস্থিরতা বাচ্চার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমার মনে আছে, আমার এক পরিচিতের বাচ্চার জ্বর হলে সে এতটাই নার্ভাস হয়ে গিয়েছিল যে, বাচ্চাটাও আরও বেশি কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল। পরে সে শান্ত হওয়ার পর বাচ্চার অবস্থাও ভালো হয়। তাই, যখন আপনার বাচ্চার জ্বর হবে, তখন গভীর শ্বাস নিন, নিজেকে শান্ত করুন। আপনার বাচ্চাকে জড়িয়ে ধরুন, তাকে আদর করুন, তার সাথে কথা বলুন। বোঝান যে আপনি তার পাশেই আছেন। বাচ্চার আরাম নিশ্চিত করুন, তাকে ভরসা দিন। অনেক সময় শুধু বাবা-মায়ের ভালোবাসা আর স্পর্শই বাচ্চার অনেক কষ্ট লাঘব করে দেয়। তাকে ধৈর্য ধরে সময় দিন, শরীরকে তার কাজ করতে দিন। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নিজের যত্ন নিন: বাবা-মায়ের সুস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ

বাচ্চার জ্বর হলে আমরা প্রায়ই নিজেদের কথা ভুলে যাই। দিনরাত বাচ্চার পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকি, খাওয়া-দাওয়া বা ঘুমের দিকে মনোযোগ দেই না। কিন্তু এটা করা একদম ঠিক নয়। কারণ, আপনার শরীর অসুস্থ হলে বাচ্চার যত্ন নেবেন কিভাবে?

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার আমার বাচ্চা জ্বরে ভুগছিল আর আমি এতটুকু বিশ্রাম না নিয়ে তার যত্ন নিচ্ছিলাম। ফলাফলস্বরূপ, আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, আমি সুস্থ না থাকলে বাচ্চার পাশে কে থাকবে?

তাই বাচ্চার জ্বর হলেও নিজের যত্ন নেওয়াটা খুব জরুরি। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর চেষ্টা করুন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং মানসিক চাপ কমাতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিশ্রাম নিন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নিন। স্বামী/স্ত্রী বা অন্য কোনো সদস্যকে কিছুক্ষণ বাচ্চার কাছে রেখে আপনি একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। মনে রাখবেন, একজন সুস্থ ও শক্তিশালী বাবা-মাই তার অসুস্থ বাচ্চার সবচেয়ে ভালো যত্ন নিতে পারে। আপনার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা আপনার বাচ্চার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অপরিহার্য।

글을마치며

আশা করি, এই বিস্তারিত আলোচনা আপনাদের ছোট্ট সোনামণির জ্বর নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করবে। বাবা-মা হিসেবে আমাদের মন সবসময়ই সন্তানের জন্য অস্থির থাকে। তবে সঠিক তথ্য জেনে, ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতির মোকাবেলা করা গেলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিই সহজ মনে হয়। মনে রাখবেন, আপনার ধৈর্য, সচেতনতা আর ভালোবাসা আপনার বাচ্চার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অপরিহার্য। যেকোনো সন্দেহ বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না, কারণ সময়মতো সঠিক পদক্ষেপই আপনার সন্তানের সুস্থতার চাবিকাঠি।

Advertisement

জেনে রাখা ভালো কিছু জরুরি তথ্য

১. তিন মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর ১০১° ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

২. জ্বরের সময় ডিহাইড্রেশন এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার যেমন জল, ওআরএস, ফলের রস বা বুকের দুধ দিন।

৩. জ্বর কমানোর জন্য হালকা গরম জলে ভেজানো কাপড় দিয়ে বাচ্চার শরীর মোছানো (স্পঞ্জ বাথ) খুব কার্যকর হতে পারে।

৪. শিশুদের অ্যাসপিরিন কখনোই দেবেন না এবং জ্বর কমানোর ওষুধ দেওয়ার আগে সর্বদা ওজন ও বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজ নিশ্চিত করুন।

৫. যদি বাচ্চার শ্বাসকষ্ট, র‍্যাশ, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত নিস্তেজ ভাব দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সারসংক্ষেপ

ছোট্ট শিশুদের জ্বর এক সাধারণ সমস্যা হলেও, বাবা-মায়েদের জন্য এটি একটি চিন্তার কারণ। জ্বর কেন হয়, কখন চিন্তিত হতে হবে, এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি – এই বিষয়গুলি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রা পরিমাপ, ওষুধের সঠিক ব্যবহার, পর্যাপ্ত তরল খাবার নিশ্চিত করা এবং বাচ্চার আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। সর্বোপরি, বাবা-মায়েদের শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকা এবং নিজেদের যত্ন নেওয়াও বাচ্চার দ্রুত সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: শিশুর জ্বর হলে প্রথমে কী করা উচিত?

উ: আহা রে, ছোট্ট সোনার জ্বর মানেই বাবা-মায়ের মনটা কেমন অস্থির হয়ে ওঠে, তাই না? আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, শিশুর গা যখন গরম হয়, তখন প্রথমেই একটা চাপা উদ্বেগ কাজ করে। এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে বরং ঠান্ডা মাথায় কিছু প্রাথমিক কাজ করা খুব জরুরি।প্রথমত, শিশুর তাপমাত্রা মেপে নিন। আজকাল তো ডিজিটাল থার্মোমিটার খুব সহজেই পাওয়া যায়। ওর বগলে বা কপালে ধরে তাপমাত্রাটা জেনে নিন। যদি দেখেন হালকা জ্বর, মানে ১০২ ফারেনহাইট বা তার আশেপাশে, তাহলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এরপর যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো ওর শরীর থেকে বাড়তি কাপড় খুলে হালকা করে দিন। আমি তো আমার বাবুর জ্বর হলে সুতির পাতলা জামা পরাতাম, যাতে শরীর থেকে তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত কাপড় চাপালে কিন্তু শরীর থেকে তাপ বের হতে পারে না, উল্টে আরও খারাপ লাগতে পারে।এরপর হালকা উষ্ণ জল দিয়ে শরীর মুছে দিন। একদম ঠান্ডা জল কিন্তু ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে শিশুর শরীর কাঁপতে পারে এবং জ্বর আরও বাড়তে পারে। ভেজা নরম কাপড় দিয়ে ওর কপাল, ঘাড়, বগল আর কুঁচকি আলতো করে মুছে দিন। এতে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে। আর হ্যাঁ, শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার দিন। যদি স্তন্যপান করান, তাহলে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ান। বড় শিশুদের ক্ষেত্রে জল, ফলের রস বাORS (Oral Rehydration Solution) দিতে পারেন। এই সময় শরীরকে ডিহাইড্রেটেড হতে দেওয়া চলবে না। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই অনেক সময় শিশুকে দ্রুত আরাম দিতে সাহায্য করে।

প্র: কখন বুঝব যে ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি?

উ: এই প্রশ্নটা নিয়ে আমি নিজে সব সময় একটু বেশি সতর্ক থাকি। কারণ, সামান্য জ্বর আর গুরুতর জ্বরের মধ্যে পার্থক্যটা বোঝা কিন্তু খুব দরকারি। সাধারণত, সব জ্বরই ডাক্তারের কাছে ছুটতে হয় না, তবে কিছু লক্ষণ আছে যা দেখলে আর দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।প্রথমত, যদি আপনার শিশুর বয়স তিন মাসের কম হয় এবং তার জ্বর হয়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান। ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাই তাদের ক্ষেত্রে জ্বরকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। এরপর, যদি জ্বর ১০২-১০৩ ফারেনহাইট বা তার বেশি হয় এবং সাধারণ উপায়ে না কমে, তাহলেও ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।এছাড়াও, কিছু বিশেষ লক্ষণ আছে যা দেখলে আপনাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে:
শ্বাসকষ্ট: যদি দেখেন শিশু দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
লেথার্জি বা নিস্তেজ ভাব: যদি শিশু অতিরিক্ত ঘুমিয়ে থাকে, ডাকলে সাড়া না দেয়, বা একেবারেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
ফুসকুড়ি: যদি জ্বর হওয়ার সাথে সাথে শরীরে কোনো অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি দেখা যায়।
বমি বা ডায়রিয়া: যদি বারবার বমি হয় বা অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হয় এবং শিশু কোনো খাবার বা পানীয় ধরে রাখতে না পারে।
তীব্র ব্যথা: যদি শিশু কান্নাকাটি করে এবং শরীরের কোনো অংশে তীব্র ব্যথা অনুভব করে (যেমন – কান ব্যথা, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা)।
খিঁচুনি: জ্বরের সাথে যদি খিঁচুনি দেখা দেয়, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
জ্বর না কমা: যদি ২-৩ দিন পার হওয়ার পরও জ্বর না কমে বা আরও বাড়তে থাকে।আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, একজন বিশেষজ্ঞই সঠিকভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবেন।

প্র: ওষুধের বাইরে কি কোনো ঘরোয়া উপায় আছে যা জ্বর কমাতে সাহায্য করে?

উ: অবশ্যই! ওষুধের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপায় আছে যা সত্যিই শিশুর জ্বর কমাতে এবং তাকে আরাম দিতে সাহায্য করে। আমি নিজে যখন আমার বাবুর জ্বর হত, তখন এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে বেশ উপকার পেয়েছি। তবে মনে রাখবেন, এগুলো ওষুধের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করে।প্রথম এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, উষ্ণ জলের স্পঞ্জ বাথ। আগেই বলেছি, ঠান্ডা জল একদম নয়। হালকা উষ্ণ জল দিয়ে একটি নরম কাপড় ভিজিয়ে শিশুর শরীর আলতো করে মুছে দিন। বিশেষ করে কপাল, বগল, কুঁচকি এবং ঘাড়ের অংশগুলোতে বেশি মনোযোগ দিন। এতে শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যায় এবং শিশুর আরাম হয়। আমি দেখেছি, এই পদ্ধতিটা শিশুকে দ্রুত স্বস্তি দেয়।দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত তরল খাবার নিশ্চিত করা। জল, মায়ের দুধ, পাতলা স্যুপ, ফলের রস – এই সময়ে শিশুকে বেশি বেশি করে তরল খাবার দিন। ডিহাইড্রেশন জ্বরের সময় একটি সাধারণ সমস্যা, তাই শরীরকে জলশূন্য হতে দেওয়া যাবে না। আমার বাবু যখন জ্বর নিয়ে খেতে চাইত না, তখন আমি অল্প অল্প করে ফলের রস বা জলের সাথে স্যালাইন মিশিয়ে দিতাম, যাতে ওর শরীরে জলের অভাব না হয়।তৃতীয়ত, হালকা এবং আরামদায়ক পোশাক পরানো। খুব বেশি গরম কাপড় পরালে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। সুতির হালকা পোশাক পরালে বাতাস চলাচল ভালো হয় এবং শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর ঘরে যেন পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল হয়, সেই ব্যবস্থা করুন। অতিরিক্ত গরম বা বদ্ধ পরিবেশে শিশুর অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।চতুর্থত, পর্যাপ্ত বিশ্রাম। জ্বর হলে শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন। খেলার জন্য চাপ দেবেন না বা বেশি উত্তেজিত করবেন না। একটা শান্ত পরিবেশে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিন।পঞ্চমত, কপালে বা শরীরে ভেজা ঠান্ডা পটি। একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড় ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে শিশুর কপালে বা শরীরের অন্যান্য অংশে দিতে পারেন। এতেও তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে এবং শিশু স্বস্তি বোধ করে।এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো শিশুর জ্বর কমাতে অনেক সাহায্য করে, তবে যদি জ্বর বাড়তে থাকে বা অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement