আপনার শিশুর প্লে-স্কুল: ভুল বেছে নিলে পস্তাবেন, জেনে নিন সেরাটা চেনার সহজ উপায়

webmaster

아기와 놀이학교 선택 - **A warm and nurturing preschool classroom moment.**
    *   **Description:** A cheerful female pres...

আপনার ছোট্ট সোনামণির জন্য সঠিক প্লেস্কুল নির্বাচন করাটা বাবা-মায়ের জন্য এক বিশাল সিদ্ধান্ত, তাই না? আমি জানি, নিজের সন্তানকে সেরাটা দিতে আমরা সবাই কতো চেষ্টা করি। আজকালকার ব্যস্ত জীবনে শিশুদের সামাজিকীকরণ এবং প্রারম্ভিক শিক্ষার জন্য প্লেস্কুলগুলো যেন এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এত বিকল্পের ভিড়ে কোনটা যে আপনার বাচ্চার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে, তা নিয়ে প্রায়শই আমরা দ্বিধায় ভুগি। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই প্রক্রিয়াটা সত্যিই একটু জটিল হতে পারে। আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, নিরাপত্তা, শিক্ষকের মান, খেলার জায়গা—সবকিছুই খুঁটিয়ে দেখতে হয়। সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা প্লেস্কুলের পাঠ্যক্রমেও প্রতিফলিত হচ্ছে। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করে, চলুন আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নিই, যাতে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আরও সহজ হয়ে যায়।

아기와 놀이학교 선택 관련 이미지 1

আপনার ছোট্ট তারার জন্য সঠিক প্লেস্কুল বেছে নেওয়ার গোপন মন্ত্র: আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা

আপনার সন্তানের প্রথম শিক্ষাজীবন শুরু করার সিদ্ধান্তটা সত্যিই অনেক চিন্তার, তাই না? আমি জানি, প্রত্যেক বাবা-মা চান তাদের সন্তান যেন সবচেয়ে ভালো পরিবেশে বেড়ে ওঠে, যেখানে তারা হাসতে হাসতে নতুন কিছু শিখতে পারে। আমার নিজের সন্তানের জন্য প্লেস্কুল খুঁজতে গিয়ে আমি কত রাত যে জেগেছি, সেটা শুধু আমিই জানি!

বিভিন্ন প্লেস্কুলের শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবেশ, শিক্ষকদের যোগ্যতা — সবকিছু খতিয়ে দেখতে গিয়ে মনে হতো যেন আমি নিজেই আবার স্কুলে ভর্তি হচ্ছি। আজকালকার প্লেস্কুলগুলো শুধু খেলার জায়গা নয়, বরং ভবিষ্যতের ভিত গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে, যখন আমরা দেখি যে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই সামাজিক দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের কৌশল শিখছে, তখন মনটা শান্ত হয়। এই কারণেই, প্লেস্কুল নির্বাচন করার সময় আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়। আমি আজ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর যা শিখেছি, তার আলোকে আপনাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিতে এসেছি, যাতে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হয়। কারণ আপনার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রথম সিঁড়িটাই হলো সঠিক প্লেস্কুল নির্বাচন।

১. আপনার সন্তানের স্বভাব আর চাহিদা বোঝা: এটাই প্রথম পদক্ষেপ

২. শিক্ষকের যোগ্যতা ও ভালোবাসা: যারা হবে আপনার সন্তানের দ্বিতীয় মা-বাবা

নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি: যেখানে আপনার সন্তান নির্ভয়ে শিখবে ও খেলবে

Advertisement

প্লেস্কুল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধিকে আমার কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। আপনার সন্তান দিনের একটা বড় অংশ যেখানে কাটাবে, সেই জায়গাটা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে কোনো আপস চলে না। আমি যখন আমার সন্তানের জন্য প্লেস্কুল খুঁজছিলাম, তখন প্রথমেই স্কুলের ভেতরের ও বাইরের পরিবেশ খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। খেলার সরঞ্জামগুলো কতটা সুরক্ষিত, কোনো ধারালো কোণা আছে কিনা, বৈদ্যুতিক তারগুলো ঠিকভাবে ঢাকা আছে কিনা — এসব ছোট ছোট বিষয়ও আমার চোখ এড়ায়নি। এমনকি প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথে নিরাপত্তা প্রহরী আছেন কিনা, বা কারা বাচ্চাদের আনা-নেওয়া করছেন, সেদিকেও আমি খেয়াল রেখেছিলাম। আমার মনে আছে, একবার একটি প্লেস্কুলে দেখেছিলাম বাচ্চাদের জন্য আলাদা সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা আছে, যা সরাসরি অভিভাবকদের মোবাইলে দেখা যায়। এটা আমার মনকে অনেক শান্তি দিয়েছিল। বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে দ্রুত রোগ ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা অত্যন্ত জরুরি। টয়লেট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কিনা, পর্যাপ্ত সাবান ও স্যানিটাইজার আছে কিনা, খেলার সরঞ্জাম নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় কিনা — এসব দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা উচিত। একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ আপনার সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১. স্কুলের ভৌত অবকাঠামো ও সুরক্ষা ব্যবস্থা: সিসিটিভি থেকে জরুরি নির্গমন পথ পর্যন্ত

২. স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা: অসুস্থতার সময় কীভাবে সামলানো হয়?

আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি ও পাঠ্যক্রম: ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি

প্লেস্কুলের শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করাটা আমার কাছে বরাবরই খুব আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। শুধু অক্ষর জ্ঞান আর সংখ্যা শেখানোই তো সব নয়, তাই না? আজকালকার প্লেস্কুলগুলো শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং খেলার ছলে শেখার (play-based learning), হাতে কলমে কাজ করার (experiential learning) এবং সৃজনশীলতা বাড়ানোর দিকে জোর দেয়। আমার সন্তানের প্লেস্কুল নির্বাচনের সময় আমি বিশেষভাবে খেয়াল রেখেছিলাম তাদের পাঠ্যক্রম কতটা আধুনিক এবং বৈচিত্র্যময়। তারা কি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি শিল্পকলা, সঙ্গীত, গল্প বলা এবং আউটডোর খেলার মাধ্যমে শেখানোর ব্যবস্থা আছে?

আমি দেখেছি, যে প্লেস্কুলগুলো শিশুদের নিজস্ব গতিতে শিখতে উৎসাহিত করে এবং তাদের কৌতূহলকে বাড়িয়ে তোলে, সেখানেই শিশুরা বেশি আনন্দ পায়। অনেক স্কুলে মন্টেসরি বা কিন্ডারগার্টেন পদ্ধতির অনুসরণ করা হয়, যা শিশুদের স্বাবলম্বী হতে শেখায় এবং তাদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তা তৈরি করে। একটি ভালো প্লেস্কুল শিশুদের সামাজিক, আবেগিক, শারীরিক এবং জ্ঞানীয় বিকাশে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়। তারা ভবিষ্যতের জন্য শিশুদের প্রস্তুত করে, যেখানে শুধু পড়ালেখা নয়, বরং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং অন্যদের সাথে মিশে চলার গুণগুলোও শেখানো হয়।

১. খেলার ছলে শেখা: আনন্দ ও শেখার মেলবন্ধন

২. সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন: নতুন কিছু করার প্রেরণা

প্লেস্কুলের খরচ ও অন্যান্য সুবিধা: আপনার বিনিয়োগের সদ্ব্যবহার

প্লেস্কুল নির্বাচনের ক্ষেত্রে খরচের বিষয়টি কিন্তু আমাদের অনেকের জন্যই একটা বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমি জানি, আমরা সবাই চাই আমাদের সন্তানের জন্য সেরাটা দিতে, কিন্তু বাজেটটাও তো একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিভিন্ন প্লেস্কুলের বেতন কাঠামো, ভর্তি ফি, মাসিক টিউশন ফি, খাবার ও যাতায়াত খরচ — সব মিলিয়ে একটা বড় অঙ্ক দাঁড়াতে পারে। তাই, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি প্লেস্কুলের খরচের একটি বিস্তারিত তালিকা নেওয়া এবং তা তুলনা করা খুবই জরুরি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, শুধু কম খরচ দেখেই কোনো প্লেস্কুল বেছে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় বেশি খরচের পেছনে উন্নত অবকাঠামো, যোগ্য শিক্ষক, ভালো খাবার এবং অতিরিক্ত সুবিধাগুলো থাকে, যা আপনার সন্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করতে পারে। আবার, কিছু প্লেস্কুল তুলনামূলকভাবে কম খরচেও খুব ভালো মানের শিক্ষা প্রদান করে। এখানে আপনাকে আপনার বাজেট এবং প্লেস্কুলের মানের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে। কিছু প্লেস্কুল অতিরিক্ত সুবিধা যেমন – দুপুরের খাবার, স্ন্যাকস, স্কুল বাস বা পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপের জন্য অতিরিক্ত চার্জ নেয়। এই সব বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত, যাতে পরে কোনো অপ্রত্যাশিত খরচ না আসে।

সুবিধা কম খরচের প্লেস্কুল বেশি খরচের প্লেস্কুল
শিক্ষকের যোগ্যতা সাধারণত মৌলিক যোগ্যতা সম্পন্ন উচ্চ প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ
ক্লাসের আকার বড় হতে পারে ছোট, ব্যক্তিগত মনোযোগের সুযোগ
খেলার সরঞ্জাম মৌলিক ও সীমিত আধুনিক ও বৈচিত্র্যময়
নিরাপত্তা ব্যবস্থা মৌলিক, সিসিটিভি নাও থাকতে পারে উন্নত, সিসিটিভি, প্রহরী
অতিরিক্ত কার্যক্রম সীমিত বা নেই সঙ্গীত, নাচ, আর্ট, কম্পিউটার
Advertisement

১. বাজেট নির্ধারণ ও তুলনা: কোন প্যাকেজ আপনার জন্য সেরা?

২. লুকানো খরচ ও অতিরিক্ত সুবিধা: সব দিক খতিয়ে দেখা

অভিভাবকদের অংশগ্রহণ: আপনার ভূমিকাও কিন্তু কম নয়!

আপনার সন্তানের প্লেস্কুল জীবনের সাফল্য শুধুমাত্র স্কুলের উপরই নির্ভর করে না, বরং আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণও এখানে একটি বিশাল ভূমিকা রাখে। আমি যখন প্রথমবার মা হয়েছিলাম, তখন ভাবতাম প্লেস্কুলে বাচ্চা দিলে আমার দায়িত্ব কমে যাবে। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম, ব্যাপারটা উল্টো!

প্লেস্কুল আসলে একটা সেতু, যা সন্তান এবং বাবা-মায়ের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। আপনার সন্তানের প্লেস্কুলে যাওয়া শুরুর পর থেকে আপনি কিভাবে তাদের শেখার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারেন, তা নিয়ে আমি কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করতে চাই। শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তান স্কুলে কী শিখছে, কী নিয়ে সমস্যা হচ্ছে বা কোন বিষয়ে সে আনন্দ পাচ্ছে – এসব জেনে রাখা আপনাকে বাড়িতেও তার শিক্ষার ধারা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। অনেক প্লেস্কুল অভিভাবক-শিক্ষক মিটিং, ওয়ার্কশপ বা স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। এই সুযোগগুলো কাজে লাগানো উচিত। আমি নিজে অনেকবার স্কুলের অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছি, যা আমাকে আমার সন্তানের বন্ধুদের চিনতে এবং স্কুলের পরিবেশ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে সাহায্য করেছে। এতে শুধু আপনার সন্তানই নয়, আপনিও স্কুলের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ আপনার সন্তানকে বোঝাবে যে, আপনি তার পড়ালেখাকে কতটা গুরুত্ব দেন এবং তাদের পাশে আছেন।

১. শিক্ষকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ: আপনার সন্তানের অগ্রগতির অংশীদার হন

২. স্কুলের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ: শুধুমাত্র দর্শক না হয়ে একজন সদস্য হয়ে উঠুন

অন্যান্য অভিভাবকদের মতামত ও ব্যক্তিগত পরিদর্শন: শেষ মুহূর্তের যাচাই

Advertisement

প্লেস্কুল নির্বাচনের আগে আমার কাছে সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর মধ্যে একটি ছিল অন্যান্য অভিভাবকদের সাথে কথা বলা এবং ব্যক্তিগতভাবে স্কুল পরিদর্শন করা। কারণ, বিজ্ঞাপন বা ওয়েবসাইটে যা লেখা থাকে, তার বাইরেও কিছু বিষয় থাকে যা সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই বোঝা যায়। আমি যখন আমার সন্তানের জন্য প্লেস্কুল খুঁজছিলাম, তখন আশেপাশের পরিচিত যারা ইতিমধ্যেই তাদের সন্তানদের প্লেস্কুলে ভর্তি করিয়েছেন, তাদের মতামত খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলাম। কোন প্লেস্কুলে কী সুবিধা আছে, শিক্ষকরা কেমন, বাচ্চাদের প্রতি তাদের ব্যবহার কেমন — এই ছোট ছোট বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারাটা আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সাহায্য করেছিল। বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম বা সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপেও আমি প্রশ্ন করতাম এবং মানুষের অভিজ্ঞতা শুনতাম। তবে, অন্যের কথায় পুরোপুরি বিশ্বাস না করে, প্রতিটি প্লেস্কুল অন্তত একবার ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করাটা আমার কাছে অপরিহার্য মনে হয়। আমি নিজে গিয়ে দেখেছিলাম ক্লাস রুমগুলো কতটা খোলামেলা, খেলার জায়গা কেমন, ওয়াশরুমগুলো পরিষ্কার কিনা, এমনকি বাচ্চাদের খাবারের মেন্যুও আমি দেখেছি। কিছু প্লেস্কুল ট্রায়াল ক্লাসের সুযোগ দেয়, যা আপনার সন্তানকে সেখানকার পরিবেশে অভ্যস্ত হতে এবং আপনার সন্তানের পছন্দ বুঝতে সাহায্য করবে। আপনার সন্তান যদি ক্লাস শেষ করে হাসিমুখে ফেরে, তবে বুঝবেন যে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

১. অভিভাবক কমিউনিটির সাথে আলোচনা: বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

২. ব্যক্তিগত ভিজিট ও পর্যবেক্ষণ: নিজের চোখেই সবটা যাচাই করুন

아기와 놀이학교 선택 관련 이미지 2

글কে বিদায় জানাই

আজ আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের সাথে প্লেস্কুল নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কথা বললাম। আমি জানি, প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছেই তাদের সন্তান অমূল্য রত্ন, আর তাদের জন্য সেরা পরিবেশটা খুঁজে বের করাটা সহজ নয়। আমার এই লেখাটি যদি আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে একটুও সাহায্য করে, তবে আমার পরিশ্রম সার্থক। মনে রাখবেন, আপনার সন্তান যেখানে হাসবে, খেলবে এবং মনের আনন্দে নতুন কিছু শিখবে, সেটাই তার জন্য সেরা জায়গা। আপনার ছোট্ট তারার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এই প্রথম ধাপটি যেন সঠিকভাবে নেওয়া হয়, সেই শুভকামনা জানাই।

কিছু দরকারি তথ্য যা জেনে রাখা ভালো

১. প্লেস্কুল নির্বাচন করার আগে আপনার সন্তানের স্বভাব এবং ব্যক্তিত্বকে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন, কারণ এতে সঠিক প্লেস্কুল খুঁজে পেতে সুবিধা হবে।

২. শিক্ষকের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বাচ্চাদের প্রতি তাদের ভালোবাসা কতটা, তা যাচাই করা খুব জরুরি, কারণ তারাই আপনার সন্তানের দ্বিতীয় অভিভাবক।

৩. প্লেস্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নিন, এটি আপনার সন্তানের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

৪. প্লেস্কুলের শিক্ষাপদ্ধতি আধুনিক কিনা, সৃজনশীলতা ও খেলার ছলে শেখানোর উপর জোর দেওয়া হয় কিনা, সেদিকে নজর রাখুন।

৫. অন্যান্য অভিভাবকদের সাথে কথা বলুন এবং নিজের চোখে প্লেস্কুল পরিদর্শন করুন, এতে বাস্তব চিত্রটা আপনার সামনে পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে

সঠিক প্লেস্কুল নির্বাচন আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের ভিত গড়ে তোলার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শুধু খরচ বা সুবিধার দিকে না তাকিয়ে, শিক্ষকের মান, স্কুলের পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতিকে সমান গুরুত্ব দিন। আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ আপনার সন্তানের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করে তুলবে। মনে রাখবেন, একটি ভালো প্লেস্কুল শুধু পড়াশোনা নয়, বরং শিশুদের সামাজিক, আবেগিক এবং শারীরিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: আমার বাচ্চার জন্য একটি ভালো এবং নিরাপদ প্লেস্কুল কিভাবে চিনবো?

উ: আপনার ছোট্ট সোনামণির জন্য সঠিক প্লেস্কুল বেছে নেওয়াটা আসলে একটা মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ, তাই না? আমি যখন আমার বাচ্চার জন্য প্লেস্কুল খুঁজছিলাম, তখন আমারও একই প্রশ্ন ছিল। প্রথমত, স্কুলের পরিবেশটা খুব মন দিয়ে দেখুন। মনে রাখবেন, নিরাপত্তা সবার আগে। গেটে প্রহরী আছে কিনা, সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে কিনা, খেলার জায়গাটা সুরক্ষিত কিনা, বাচ্চাদের টয়লেট পরিচ্ছন্ন কিনা—এগুলো খুঁটিয়ে দেখতে হবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রথম দেখাতেই যদি আপনার মন শান্ত না হয়, তাহলে আরও একটু খোঁজখবর নেওয়া দরকার।শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিকেও নজর দিন। তাঁরা বাচ্চাদের সাথে কতটা আন্তরিক, ধৈর্যশীল কিনা, তাদের কথা বলার ভঙ্গি কেমন—এগুলো খুব জরুরি। আমার মনে হয়, একজন ভালো শিক্ষক শুধুমাত্র পড়াশোনা করান না, বরং বাচ্চাদের মনের কথা বোঝেন এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেন। স্কুলের শিক্ষাপদ্ধতি কেমন, প্রতিদিনের রুটিন কী, খেলাধুলা আর পড়াশোনার মধ্যে কতটা ভারসাম্য রাখা হয়—এগুলো জেনে নেওয়া ভালো। আমি সবসময় বলি, শুধু বিজ্ঞাপনে মুগ্ধ না হয়ে, স্কুলে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলুন, শিক্ষকদের সাথে আলাপ করুন এবং সম্ভব হলে অন্যান্য অভিভাবকদের সাথেও কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা জানুন। তাদের মুখে গল্প শুনলে অনেক ভেতরের খবর বেরিয়ে আসে, যা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

প্র: প্লেস্কুলে কোন ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি বা কারিকুলাম অনুসরণ করা উচিত?

উ: আজকাল অনেক ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি প্রচলিত আছে, আর কোনটা যে সেরা, তা নিয়ে বাবা-মায়েরা বেশ চিন্তায় থাকেন। আমার মতে, প্লেস্কুলে এমন একটি শিক্ষাপদ্ধতি থাকা উচিত যা শুধুমাত্র মুখস্থ বিদ্যার উপর জোর না দিয়ে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে সাহায্য করে। ‘প্লে-বেসড লার্নিং’ বা খেলার মাধ্যমে শেখানো পদ্ধতিটা আমার কাছে দারুণ মনে হয়। কারণ শিশুরা খেলার ছলেই অনেক কিছু শেখে—দলবদ্ধভাবে কাজ করা, সমস্যা সমাধান করা, নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করা। আমি দেখেছি, যখন বাচ্চারা খেলাধুলা আর গল্প বলার মাধ্যমে শেখে, তখন তাদের আগ্রহ অনেক বেশি থাকে।আধুনিক প্লেস্কুলগুলোতে সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তারা শুধুমাত্র অক্ষর জ্ঞান বা সংখ্যা জ্ঞান না দিয়ে, ছবি আঁকা, গান গাওয়া, নাচ করা, নতুন কিছু বানানো—এসবের মাধ্যমে বাচ্চাদের কল্পনাশক্তিকে বিকশিত করে। আমার পরামর্শ হলো, এমন একটি স্কুল বেছে নিন যেখানে বাচ্চাদের নিজস্ব মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তাদের প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে। একটি শিশুকে ছোটবেলা থেকেই কৌতূহলী করে তোলা গেলে, তার শেখার আগ্রহ সারাজীবন অটুট থাকে, আর এটাই আসল শিক্ষা, তাই না?

প্র: আমার সন্তানকে প্লেস্কুলে পাঠানোর সঠিক বয়স কোনটা?

উ: এটা এমন একটা প্রশ্ন যা সব বাবা-মাকেই ভাবায়, আর এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। আমি যখন আমার বাচ্চার জন্য ভাবছিলাম, তখন আমার পরিচিত অনেকেই বলেছিলেন ২ বছর বয়সে পাঠাতে, আবার কেউ কেউ বলেছিলেন ৩ বছর পরে। আসলে প্রতিটি বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ভিন্ন। সাধারণত, ২.৫ থেকে ৩ বছর বয়সকে প্লেস্কুলে পাঠানোর জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এই সময়ে বাচ্চারা একটু স্বাধীন হতে শুরু করে, অন্যদের সাথে মিশতে চায় এবং তাদের মধ্যে কৌতূহলও বাড়ে।তবে, আপনার সন্তানের কিছু লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যদি আপনার বাচ্চা অন্যদের সাথে খেলতে পছন্দ করে, নতুন পরিবেশ বা মানুষের সাথে মানিয়ে নিতে পারে, এবং কিছুক্ষণ আপনার থেকে দূরে থাকতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে, তবে সে প্লেস্কুলের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি সে খুব লাজুক হয়, মায়ের আঁচল ছাড়া কিছুতেই থাকতে না চায় বা সহজেই ভয় পায়, তাহলে হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা ভালো। হঠাৎ করে প্লেস্কুলে পাঠিয়ে দিলে তার মনে একটা বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। আমি বিশ্বাস করি, বাবা-মায়ের অন্তর্দৃষ্টি এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তান কখন প্রস্তুত, এটা আপনিই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারবেন। তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে তাকে নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন।

📚 তথ্যসূত্র