আপনার শিশুকে খাওয়ার আদব শেখানোর এই কৌশলগুলো না জানলে পস্তাবেন!

webmaster

아기 식사 예절 가르치기 - **Prompt:** A cheerful toddler, around 2-3 years old, wearing a clean, brightly colored t-shirt and ...

ছোট্ট সোনামণিদের নিয়ে মা-বাবা হিসেবে আমাদের কত স্বপ্ন! তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য আমরা কতই না চেষ্টা করি। আর এই চেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ছোটবেলা থেকেই ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা, বিশেষ করে খাবারের সময়। কিন্তু সত্যি বলতে, ওদেরকে শান্তভাবে টেবিলে বসিয়ে খাওয়ানো, চামচ ধরতে শেখানো কিংবা খাবার নিয়ে বায়না না করার শিক্ষা দেওয়াটা মোটেও সহজ নয়। আমি নিজেও এই পথটা পাড়ি দিয়ে এসেছি, তাই বুঝি আপনাদের দুশ্চিন্তা। আজকাল মোবাইল বা টিভির দিকে ওদের মনযোগ সরিয়ে নেওয়াটা যেন আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমার অভিজ্ঞতা বলে, কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলেই এই কাজটা অনেক আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। ওদের শুধু পেট ভরালেই হবে না, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আর খাবারের প্রতি সম্মানটাও শেখানো দরকার। নিচে আমরা ঠিক এই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনার সোনামণিও হাসিমুখে খেতে শেখে আর বেড়ে ওঠে সুস্থ ও সবলভাবে।

ছোট্ট সোনামণিদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য মা-বাবা হিসেবে আমাদের চেষ্টার শেষ নেই। তাদের সুস্থ আর সবলভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাটাও ভীষণ জরুরি। আমি নিজেও একজন মা, তাই জানি এই পথে কত চ্যালেঞ্জ থাকে। বাচ্চাদের খাওয়ানো, তাদের বায়না সামলানো, আর বিশেষ করে আজকাল মোবাইল-টিভি ছাড়া তাদের খাবার টেবিলে বসানো – এ যেন এক কঠিন যুদ্ধ!

কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে, কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এই যুদ্ধটা আনন্দময় খেলায় পরিণত করা যায়। ওদের শুধু পেট ভরালেই হবে না, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আর খাবারের প্রতি সম্মানটাও শেখানো দরকার। নিচে আমি আপনাদের জন্য কিছু পরীক্ষিত টিপস শেয়ার করছি, যা আপনার সোনামণিকে হাসিমুখে খেতে শেখাবে।

খাওয়ার সময় মজার খেলা: বাচ্চার মন জেতার সহজ উপায়

아기 식사 예절 가르치기 - **Prompt:** A cheerful toddler, around 2-3 years old, wearing a clean, brightly colored t-shirt and ...

খাবার মানেই যে শুধু পেট ভরা নয়, এটা একটা আনন্দময় অভিজ্ঞতা, এই বোধটা ছোটবেলা থেকেই ওদের মনে গেঁথে দেওয়া খুব জরুরি। আমি দেখেছি, যখন আমি আমার মেয়েকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করতাম, তখন সে আরও বেশি বায়না করত। কিন্তু যেই না আমি খাবারকে খেলার অংশ বানিয়ে ফেললাম, ব্যাপারটা পুরো বদলে গেল!

শিশুরা খেলা ভালোবাসে, আর সেই খেলার মাধ্যমেই তারা অনেক কিছু সহজে শেখে। খাবারের রঙ, গন্ধ, আকার নিয়ে ছোট ছোট খেলা ওদের কৌতূহল বাড়ায়। যেমন, আপনি বিভিন্ন রঙের সবজি দিয়ে থালা সাজিয়ে একটা “রংধনু” তৈরি করতে পারেন এবং বাচ্চাকে বলতে পারেন “দেখি তো, কোন রঙের সবজিটা তুমি আগে খাবে?” এটা ওদের আগ্রহ বাড়ায় এবং খাওয়ার প্রতি একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। আমার মেয়ের ক্ষেত্রে তো এটা দারুণ কাজ দিয়েছিল। সে শুধু খেত না, কোন সবজিটা কী রঙের, সেটা নিয়ে গল্প করতেও ভালোবাসত। মাঝে মাঝে আমি ওকে টুকরো সবজি বা ফল দিয়ে মজার মজার শেপ বানাতে দিতাম, এতে ওর সৃজনশীলতাও বাড়ত আর খাওয়ার প্রতিও টান তৈরি হত। খাওয়ার সময় হালকা গল্প বা ছড়া বলাও ওদের মনকে খাবারের দিকে টানতে সাহায্য করে। বিশ্বাস করুন, ওদের ছোট মনকে বোঝার চেষ্টা করলে আর একটুখানি সৃজনশীল হলে খাবার সময়টা রীতিমতো উৎসবের মতো মনে হবে।

খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন ভিন্ন উপায়ে

নতুন খাবার দেখলে বাচ্চারা সহজে খেতে চায় না, এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই তাদের পছন্দের খাবারের সাথে মিশিয়ে নতুন খাবার পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। যেমন, ডালের সাথে অল্প সবজি সেদ্ধ করে মিশিয়ে বা স্যান্ডউইচে “ছদ্মবেশী” সবজি দিয়ে তাদের নতুন স্বাদের সাথে অভ্যস্ত করতে পারেন। এতে তারা না বুঝেই পুষ্টি পাবে।

খাওয়ার সময় গল্প আর ছড়ার জাদু

খাওয়ার সময় মোবাইল-টিভি বন্ধ রেখে ওদের মজার মজার গল্প বা ছড়া শোনান। এতে ওদের মনোযোগ খাবারের দিকেই থাকবে আর তারা আনন্দ নিয়ে খাবে। আমার মনে আছে, আমার ছেলে ছোটবেলায় ‘আয়রে আয় টিয়ে’ ছড়া শুনতে শুনতে টুপটাপ করে খেয়ে ফেলত।

মোবাইল-টিভি ছাড়াই খাবারে মন: আমার পরীক্ষিত পদ্ধতি

আজকালকার দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বোধহয় এটাই – বাচ্চাদের মোবাইল বা টিভি ছাড়া খাওয়ানো! আমার নিজের অভিজ্ঞতাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। প্রথমদিকে আমিও ভাবতাম, একটু কার্টুন দেখতে দিলে তো শান্তভাবে খাবে, কিন্তু পরে বুঝলাম এটা আসলে এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ। একবার যখন এই অভ্যাস গড়ে ওঠে, তখন মোবাইল ছাড়া এক গ্রাসও মুখে তুলতে চায় না। ব্রিটিশ চিকিৎসকরাও খাবার ও ঘুমের সময় মোবাইল দূরে রাখার পরামর্শ দেন। আমি ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটা বদলানোর চেষ্টা করেছি। প্রথমে খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলাম, যদিও এটা প্রথমদিকে বেশ কঠিন ছিল। ওর বায়না, চিৎকার, চেঁচামেচি আমাকে খুবই হতাশ করত। কিন্তু আমি ধৈর্য হারাইনি। পরিবর্তে, আমি ওর সাথে সরাসরি কথা বলা শুরু করলাম, দিনের ঘটনা নিয়ে গল্প করতাম, বা ওর পছন্দের কোনো খেলনা নিয়ে অল্প সময়ের জন্য ওর সামনে রাখতাম (কিন্তু খেলতে দিতাম না)। এতে ওর মনোযোগ ধীরে ধীরে মোবাইলের থেকে সরে এসে খাবারের দিকে ফিরতে শুরু করল। এখন সে টেবিলে বসে আমাদের সাথে কথা বলতে বলতে খায়, যা পারিবারিক বন্ধনকেও আরও মজবুত করে। মনে রাখবেন, আপনি নিজে যদি খাওয়ার সময় মোবাইল ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার সন্তানও সেটাই শিখবে।

Advertisement

পারিবারিক খাওয়ার পরিবেশ তৈরি করুন

পরিবারের সবাই একসাথে বসে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে শিশুরা উদাহরণ দেখে শেখে এবং খাবারের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। খাওয়ার সময় একে অপরের সাথে কথা বলুন, এতে পারিবারিক বন্ধনও সুদৃঢ় হয়।

স্ক্রিন টাইম সীমিত করার গুরুত্ব

খাওয়ার সময় স্ক্রিন টাইম সীমিত করা মানে হলো আপনার বাচ্চাকে খাবারের প্রতি মনোযোগ দিতে শেখানো। এতে তারা তাদের ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত শুনতে পায়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য খুব জরুরি।

স্বাস্থ্যকর খাবারকে বন্ধু বানানো: স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মেলবন্ধন

ছোট বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানোটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তারা ফল বা সবজি দেখলে নাক সিটকায়, কিন্তু চিপস, চকোলেট বা ফাস্ট ফুড দেখলে লাফিয়ে ওঠে। এই সমস্যাটা আমারও ছিল। আমার ছেলে তো ব্রকলি বা গাজরের নাম শুনলেই পালিয়ে যেত!

কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। পুষ্টিবিদরা বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তাদের সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমি বুঝতে পারলাম, জোর করে কিছু খাওয়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই আমি খাবারে একটু ভিন্নতা আনতে শুরু করলাম। যেমন, সবজি সেদ্ধ করে পিউরি বানিয়ে দই বা স্যুপের সাথে মিশিয়ে দিতাম, যা তারা সহজেই খেয়ে ফেলত। আবার, ফ্রুট সালাদকে একটু আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে দিতাম, বা ফলের স্মুদি তৈরি করতাম। আমার মনে আছে, একবার আমি সবজি দিয়ে মজার প্যানকেক বানিয়েছিলাম, আর সে এত খুশি হয়েছিল যে নিজেই আরও চেয়েছিল। আসলে, বাচ্চাদের পছন্দের খাবারের সাথে স্বাস্থ্যকর জিনিস মিশিয়ে বা পরিবেশনায় একটু সৃজনশীলতা আনলে তারা আগ্রহ নিয়ে খায়। এতে তাদের পুষ্টির চাহিদাও মেটে আর খাবারের প্রতি একটা ভালো ধারণাও তৈরি হয়।

রঙিন ও আকর্ষণীয় খাবার পরিবেশন

শিশুদের জন্য খাবারকে যতটা সম্ভব রঙিন ও আকর্ষণীয় করে পরিবেশন করুন। বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি দিয়ে থালা সাজিয়ে দিন, যা তাদের কৌতূহল বাড়াবে। যেমন, ব্রকলি দিয়ে গাছের মতো, বা ডিম সেদ্ধ দিয়ে হাসিমুখ তৈরি করতে পারেন।

খাবারের মেনুতে বৈচিত্র্য আনুন

প্রতিদিন একই খাবার দিলে বাচ্চাদের খাবারে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই খাবারে ভিন্নতা আনুন। যেমন, একদিন ডাল-ভাত হলে, পরের দিন সবজি খিচুড়ি বা ডিম-রুটি দিতে পারেন। এতে তারা নতুন নতুন স্বাদ গ্রহণ করতে শিখবে।

চামচ হাতে ছোট হাত: নিজের হাতে খাওয়ার আনন্দ

আমার মনে আছে, আমার ছেলে যখন প্রথম চামচ ধরতে শিখছিল, কী যে আনন্দ হচ্ছিল আমার! যদিও প্রথমদিকে সে পুরো ঘর নোংরা করত, কিন্তু নিজের হাতে খাওয়ার সেই চেষ্টাটা দেখতে আমার খুব ভালো লাগত। ৮ মাস বয়স থেকেই বাচ্চারা নিজের হাতে খাবার মুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। এটা ওদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রথম ধাপ। মা-বাবা হিসেবে আমরা অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ার ভয়ে বা খাবার ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ওদের নিজে খেতে দিতে চাই না। কিন্তু এটাই সঠিক সময় ওদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার। ওদের হাতে নরম, ছোট ছোট টুকরো খাবার দিন, যা তারা সহজে ধরতে পারে, যেমন সিদ্ধ শাকসবজি, ফলের টুকরো। ধীরে ধীরে ওদের ছোট ও নিরাপদ চামচ ধরতে শেখান। প্রথমদিকে ওরা হয়ত চামচ ধরতে পারবে না বা ঠিকমতো মুখে দিতে পারবে না, কিন্তু ধৈর্য ধরে উৎসাহিত করলে ওরা ঠিকই শিখে যাবে। আমি নিজে ওর পাশে বসে তাকে দেখিয়ে দিতাম কীভাবে চামচ ধরতে হয়, কীভাবে খাবার মুখে নিতে হয়। এতে সে আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হত। নিজের হাতে খাওয়ার এই প্রক্রিয়াটা ওদের খাবার হজমেও সাহায্য করে কারণ এতে ওরা ধীর গতিতে খায়।

Advertisement

আঙুলের সঠিক ব্যবহার শেখান

বাচ্চাদের ছোট ছোট টুকরো খাবার হাতে ধরিয়ে দিন, যাতে তারা তর্জনী ও বুড়ো আঙুল ব্যবহার করে খাবার ধরতে শেখে। এটি তাদের সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে।

ধৈর্য ধরে উৎসাহিত করুন

শিশুদের নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে সময় ও ধৈর্য লাগে। ওরা ভুল করলে বকবেন না, বরং ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করুন। প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করে ওদের নিজে খেতে দিন।

পুরস্কার ও প্রশংসা: ভালো অভ্যাসের গোপন চাবিকাঠি

শিশুদের ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পুরস্কার আর প্রশংসা জাদুর মতো কাজ করে। আমি দেখেছি, যখন আমার মেয়ে তার খাবার শেষ করত, তখন আমি তাকে ছোট একটা প্রশংসা করতাম বা একটা স্টার স্টিকার দিতাম। এতে সে এতটাই খুশি হত যে পরের বেলাতেও সে নিজেই খাবার শেষ করার জন্য উৎসাহ পেত। তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খাবার দিয়ে পুরস্কার বা শাস্তি দেওয়া যাবে না। কারণ এতে বাচ্চারা খাবারের প্রতি ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। যেমন, মিষ্টিকে যদি পুরস্কার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তারা ভাববে মিষ্টি হলো সেরা খাবার। তাই পুরস্কার হিসেবে অন্য কিছু দিন, যেমন একটু বেশি সময় খেলাধুলা করতে দেওয়া, পছন্দের গল্পের বই পড়ে শোনানো বা একটা আলিঙ্গন। যখন তারা ভালোভাবে খাবে, তখন তাদের কাজের প্রশংসা করুন, বলুন “তুমি তো খুব লক্ষ্মী ছেলে, সব খাবার শেষ করেছ!” এই ধরনের ইতিবাচক বাক্য তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভালো অভ্যাসের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি করে।

খাবার নয়, আচরণকে পুরস্কৃত করুন

ভালোভাবে খাওয়া বা টেবিলে শান্তভাবে বসার মতো ভালো আচরণকে পুরস্কৃত করুন, কিন্তু পুরস্কার হিসেবে মিষ্টি বা জাঙ্ক ফুড দেবেন না। খেলাধুলা বা বই পড়ার মতো অন্য কিছু দিয়ে পুরস্কৃত করতে পারেন।

ইতিবাচক প্রশংসা করুন

যখন আপনার বাচ্চা ভালোভাবে খাবে বা চেষ্টা করবে, তখন তাদের কাজের প্রশংসা করুন। “দারুণ খেয়েছ!” বা “তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছ!” এই ধরনের কথা তাদের উৎসাহিত করে।

অভ্যাস কেন গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে সাহায্য করবেন
একসাথে খাবার খাওয়া সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি, রোল মডেল দেখে শেখা পরিবারের সবার সাথে একসাথে বসে খেতে দিন
নিজ হাতে খাওয়া স্বাবলম্বী হওয়া, খাবার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো নরম টুকরো খাবার ও ছোট চামচ ব্যবহার করতে দিন
স্ক্রিন-মুক্ত পরিবেশ খাবারের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি, পুষ্টির সঠিক গ্রহণ খাওয়ার সময় মোবাইল/টিভি বন্ধ রাখুন
ধৈর্য ও প্রশংসা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ভুল করলে বকবেন না, ভালো কাজের প্রশংসা করুন

ধৈর্য ও ভালোবাসা: এই পথের সেরা সঙ্গী

আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বাচ্চাদের ভালো অভ্যাস শেখানোর পথে সবচেয়ে বড় দুটি অস্ত্র হলো ধৈর্য আর ভালোবাসা। অনেক সময় আমরা খুব দ্রুত ফলাফল চাই, আর যখন তা পাই না, তখন হতাশ হয়ে পড়ি বা রাগারাগি করি। কিন্তু শিশুদের মন খুব নরম আর সংবেদনশীল। জোর করে খাওয়ালে বা বকাঝকা করলে ওদের মনে খাবারের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হতে পারে। বরং ওদেরকে সময় দিন, ওদের ছোট ছোট ভুলগুলো ক্ষমা করুন। আমি নিজে দেখেছি, যখন আমি শান্ত আর হাসিমুখে ওর সাথে খাবার নিয়ে কথা বলতাম, তখন সে অনেক বেশি সহযোগী হত। ওদেরকে বোঝান যে খাওয়াটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু গল্পচ্ছলে, ধমকে নয়। মাঝে মাঝে ওরা খেতে না চাইলে জোর করবেন না, হয়ত ওদের খিদে নেই বা ওরা অসুস্থ বোধ করছে। তখন কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। প্রতিটি বাচ্চার শেখার ধরন ও গতি আলাদা। তাই নিজের বাচ্চার সাথে অন্য বাচ্চার তুলনা করবেন না। আপনার ভালোবাসা আর বিশ্বাস ওদেরকে ধীরে ধীরে সঠিক পথে নিয়ে আসবে। মনে রাখবেন, আজকের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই ওদের ভবিষ্যতের সুস্থ জীবনযাত্রার ভিত্তি তৈরি করবে।

শিশুদের ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত বুঝুন

শিশুরা যখন ক্ষুধার্ত না থাকে, তখন তারা মাথা নাড়তে পারে, খাবার নিয়ে খেলতে পারে বা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলতে পারে। এই সংকেতগুলো বুঝুন এবং জোর করে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।

নিয়মিত খাবার রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিন একই সময়ে শিশুকে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে তাদের শরীরে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ক্ষুধা পাবে এবং তারা সময়মতো খেতে শিখবে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, এটা খুবই কার্যকর একটা পদ্ধতি।ছোট্ট সোনামণিদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য মা-বাবা হিসেবে আমাদের চেষ্টার শেষ নেই। তাদের সুস্থ আর সবলভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাটাও ভীষণ জরুরি। আমি নিজেও একজন মা, তাই জানি এই পথে কত চ্যালেঞ্জ থাকে। বাচ্চাদের খাওয়ানো, তাদের বায়না সামলানো, আর বিশেষ করে আজকাল মোবাইল-টিভি ছাড়া তাদের খাবার টেবিলে বসানো – এ যেন এক কঠিন যুদ্ধ!

কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে, কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এই যুদ্ধটা আনন্দময় খেলায় পরিণত করা যায়। ওদের শুধু পেট ভরালেই হবে না, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আর খাবারের প্রতি সম্মানটাও শেখানো দরকার। নিচে আমি আপনাদের জন্য কিছু পরীক্ষিত টিপস শেয়ার করছি, যা আপনার সোনামণিকে হাসিমুখে খেতে শেখাবে।

Advertisement

খাওয়ার সময় মজার খেলা: বাচ্চার মন জেতার সহজ উপায়

খাবার মানেই যে শুধু পেট ভরা নয়, এটা একটা আনন্দময় অভিজ্ঞতা, এই বোধটা ছোটবেলা থেকেই ওদের মনে গেঁথে দেওয়া খুব জরুরি। আমি দেখেছি, যখন আমি আমার মেয়েকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করতাম, তখন সে আরও বেশি বায়না করত। কিন্তু যেই না আমি খাবারকে খেলার অংশ বানিয়ে ফেললাম, ব্যাপারটা পুরো বদলে গেল!

শিশুরা খেলা ভালোবাসে, আর সেই খেলার মাধ্যমেই তারা অনেক কিছু সহজে শেখে। খাবারের রঙ, গন্ধ, আকার নিয়ে ছোট ছোট খেলা ওদের কৌতূহল বাড়ায়। যেমন, আপনি বিভিন্ন রঙের সবজি দিয়ে থালা সাজিয়ে একটা “রংধনু” তৈরি করতে পারেন এবং বাচ্চাকে বলতে পারেন “দেখি তো, কোন রঙের সবজিটা তুমি আগে খাবে?” এটা ওদের আগ্রহ বাড়ায় এবং খাওয়ার প্রতি একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। আমার মেয়ের ক্ষেত্রে তো এটা দারুণ কাজ দিয়েছিল। সে শুধু খেত না, কোন সবজিটা কী রঙের, সেটা নিয়ে গল্প করতেও ভালোবাসত। মাঝে মাঝে আমি ওকে টুকরো সবজি বা ফল দিয়ে মজার মজার শেপ বানাতে দিতাম, এতে ওর সৃজনশীলতাও বাড়ত আর খাওয়ার প্রতিও টান তৈরি হত। খাওয়ার সময় হালকা গল্প বা ছড়া বলাও ওদের মনকে খাবারের দিকে টানতে সাহায্য করে। বিশ্বাস করুন, ওদের ছোট মনকে বোঝার চেষ্টা করলে আর একটুখানি সৃজনশীল হলে খাবার সময়টা রীতিমতো উৎসবের মতো মনে হবে।

খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন ভিন্ন উপায়ে

নতুন খাবার দেখলে বাচ্চারা সহজে খেতে চায় না, এটা খুবই স্বাভাবিক। তাই তাদের পছন্দের খাবারের সাথে মিশিয়ে নতুন খাবার পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। যেমন, ডালের সাথে অল্প সবজি সেদ্ধ করে মিশিয়ে বা স্যান্ডউইচে “ছদ্মবেশী” সবজি দিয়ে তাদের নতুন স্বাদের সাথে অভ্যস্ত করতে পারেন। এতে তারা না বুঝেই পুষ্টি পাবে।

খাওয়ার সময় গল্প আর ছড়ার জাদু

아기 식사 예절 가르치기 - **Prompt:** A loving family, consisting of a mother, father, and their child (around 4-5 years old, ...
খাওয়ার সময় মোবাইল-টিভি বন্ধ রেখে ওদের মজার মজার গল্প বা ছড়া শোনান। এতে ওদের মনোযোগ খাবারের দিকেই থাকবে আর তারা আনন্দ নিয়ে খাবে। আমার মনে আছে, আমার ছেলে ছোটবেলায় ‘আয়রে আয় টিয়ে’ ছড়া শুনতে শুনতে টুপটাপ করে খেয়ে ফেলত।

মোবাইল-টিভি ছাড়াই খাবারে মন: আমার পরীক্ষিত পদ্ধতি

আজকালকার দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বোধহয় এটাই – বাচ্চাদের মোবাইল বা টিভি ছাড়া খাওয়ানো! আমার নিজের অভিজ্ঞতাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। প্রথমদিকে আমিও ভাবতাম, একটু কার্টুন দেখতে দিলে তো শান্তভাবে খাবে, কিন্তু পরে বুঝলাম এটা আসলে এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ। একবার যখন এই অভ্যাস গড়ে ওঠে, তখন মোবাইল ছাড়া এক গ্রাসও মুখে তুলতে চায় না। ব্রিটিশ চিকিৎসকরাও খাবার ও ঘুমের সময় মোবাইল দূরে রাখার পরামর্শ দেন। আমি ধীরে ধীরে এই অভ্যাসটা বদলানোর চেষ্টা করেছি। প্রথমে খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলাম, যদিও এটা প্রথমদিকে বেশ কঠিন ছিল। ওর বায়না, চিৎকার, চেঁচামেচি আমাকে খুবই হতাশ করত। কিন্তু আমি ধৈর্য হারাইনি। পরিবর্তে, আমি ওর সাথে সরাসরি কথা বলা শুরু করলাম, দিনের ঘটনা নিয়ে গল্প করতাম, বা ওর পছন্দের কোনো খেলনা নিয়ে অল্প সময়ের জন্য ওর সামনে রাখতাম (কিন্তু খেলতে দিতাম না)। এতে ওর মনোযোগ ধীরে ধীরে মোবাইলের থেকে সরে এসে খাবারের দিকে ফিরতে শুরু করল। এখন সে টেবিলে বসে আমাদের সাথে কথা বলতে বলতে খায়, যা পারিবারিক বন্ধনকেও আরও মজবুত করে। মনে রাখবেন, আপনি নিজে যদি খাওয়ার সময় মোবাইল ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার সন্তানও সেটাই শিখবে।

Advertisement

পারিবারিক খাওয়ার পরিবেশ তৈরি করুন

পরিবারের সবাই একসাথে বসে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে শিশুরা উদাহরণ দেখে শেখে এবং খাবারের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। খাওয়ার সময় একে অপরের সাথে কথা বলুন, এতে পারিবারিক বন্ধনও সুদৃঢ় হয়।

স্ক্রিন টাইম সীমিত করার গুরুত্ব

খাওয়ার সময় স্ক্রিন টাইম সীমিত করা মানে হলো আপনার বাচ্চাকে খাবারের প্রতি মনোযোগ দিতে শেখানো। এতে তারা তাদের ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত শুনতে পায়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য খুব জরুরি।

স্বাস্থ্যকর খাবারকে বন্ধু বানানো: স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মেলবন্ধন

ছোট বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানোটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তারা ফল বা সবজি দেখলে নাক সিটকায়, কিন্তু চিপস, চকোলেট বা ফাস্ট ফুড দেখলে লাফিয়ে ওঠে। এই সমস্যাটা আমারও ছিল। আমার ছেলে তো ব্রকলি বা গাজরের নাম শুনলেই পালিয়ে যেত!

কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। পুষ্টিবিদরা বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তাদের সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমি বুঝতে পারলাম, জোর করে কিছু খাওয়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই আমি খাবারে একটু ভিন্নতা আনতে শুরু করলাম। যেমন, সবজি সেদ্ধ করে পিউরি বানিয়ে দই বা স্যুপের সাথে মিশিয়ে দিতাম, যা তারা সহজেই খেয়ে ফেলত। আবার, ফ্রুট সালাদকে একটু আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে দিতাম, বা ফলের স্মুদি তৈরি করতাম। আমার মনে আছে, একবার আমি সবজি দিয়ে মজার প্যানকেক বানিয়েছিলাম, আর সে এত খুশি হয়েছিল যে নিজেই আরও চেয়েছিল। আসলে, বাচ্চাদের পছন্দের খাবারের সাথে স্বাস্থ্যকর জিনিস মিশিয়ে বা পরিবেশনায় একটু সৃজনশীলতা আনলে তারা আগ্রহ নিয়ে খায়। এতে তাদের পুষ্টির চাহিদাও মেটে আর খাবারের প্রতি একটা ভালো ধারণাও তৈরি হয়।

রঙিন ও আকর্ষণীয় খাবার পরিবেশন

শিশুদের জন্য খাবারকে যতটা সম্ভব রঙিন ও আকর্ষণীয় করে পরিবেশন করুন। বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি দিয়ে থালা সাজিয়ে দিন, যা তাদের কৌতূহল বাড়াবে। যেমন, ব্রকলি দিয়ে গাছের মতো, বা ডিম সেদ্ধ দিয়ে হাসিমুখ তৈরি করতে পারেন।

খাবারের মেনুতে বৈচিত্র্য আনুন

প্রতিদিন একই খাবার দিলে বাচ্চাদের খাবারে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই খাবারে ভিন্নতা আনুন। যেমন, একদিন ডাল-ভাত হলে, পরের দিন সবজি খিচুড়ি বা ডিম-রুটি দিতে পারেন। এতে তারা নতুন নতুন স্বাদ গ্রহণ করতে শিখবে।

চামচ হাতে ছোট হাত: নিজের হাতে খাওয়ার আনন্দ

আমার মনে আছে, আমার ছেলে যখন প্রথম চামচ ধরতে শিখছিল, কী যে আনন্দ হচ্ছিল আমার! যদিও প্রথমদিকে সে পুরো ঘর নোংরা করত, কিন্তু নিজের হাতে খাওয়ার সেই চেষ্টাটা দেখতে আমার খুব ভালো লাগত। ৮ মাস বয়স থেকেই বাচ্চারা নিজের হাতে খাবার মুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। এটা ওদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রথম ধাপ। মা-বাবা হিসেবে আমরা অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ার ভয়ে বা খাবার ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ওদের নিজে খেতে দিতে চাই না। কিন্তু এটাই সঠিক সময় ওদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার। ওদের হাতে নরম, ছোট ছোট টুকরো খাবার দিন, যা তারা সহজে ধরতে পারে, যেমন সিদ্ধ শাকসবজি, ফলের টুকরো। ধীরে ধীরে ওদের ছোট ও নিরাপদ চামচ ধরতে শেখান। প্রথমদিকে ওরা হয়ত চামচ ধরতে পারবে না বা ঠিকমতো মুখে দিতে পারবে না, কিন্তু ধৈর্য ধরে উৎসাহিত করলে ওরা ঠিকই শিখে যাবে। আমি নিজে ওর পাশে বসে তাকে দেখিয়ে দিতাম কীভাবে চামচ ধরতে হয়, কীভাবে খাবার মুখে নিতে হয়। এতে সে আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হত। নিজের হাতে খাওয়ার এই প্রক্রিয়াটা ওদের খাবার হজমেও সাহায্য করে কারণ এতে ওরা ধীর গতিতে খায়।

Advertisement

আঙুলের সঠিক ব্যবহার শেখান

বাচ্চাদের ছোট ছোট টুকরো খাবার হাতে ধরিয়ে দিন, যাতে তারা তর্জনী ও বুড়ো আঙুল ব্যবহার করে খাবার ধরতে শেখে। এটি তাদের সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে।

ধৈর্য ধরে উৎসাহিত করুন

শিশুদের নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে সময় ও ধৈর্য লাগে। ওরা ভুল করলে বকবেন না, বরং ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করুন। প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করে ওদের নিজে খেতে দিন।

পুরস্কার ও প্রশংসা: ভালো অভ্যাসের গোপন চাবিকাঠি

শিশুদের ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পুরস্কার আর প্রশংসা জাদুর মতো কাজ করে। আমি দেখেছি, যখন আমার মেয়ে তার খাবার শেষ করত, তখন আমি তাকে ছোট একটা প্রশংসা করতাম বা একটা স্টার স্টিকার দিতাম। এতে সে এতটাই খুশি হত যে পরের বেলাতেও সে নিজেই খাবার শেষ করার জন্য উৎসাহ পেত। তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খাবার দিয়ে পুরস্কার বা শাস্তি দেওয়া যাবে না। কারণ এতে বাচ্চারা খাবারের প্রতি ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। যেমন, মিষ্টিকে যদি পুরস্কার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তারা ভাববে মিষ্টি হলো সেরা খাবার। তাই পুরস্কার হিসেবে অন্য কিছু দিন, যেমন একটু বেশি সময় খেলাধুলা করতে দেওয়া, পছন্দের গল্পের বই পড়ে শোনানো বা একটা আলিঙ্গন। যখন তারা ভালোভাবে খাবে, তখন তাদের কাজের প্রশংসা করুন, বলুন “তুমি তো খুব লক্ষ্মী ছেলে, সব খাবার শেষ করেছ!” এই ধরনের ইতিবাচক বাক্য তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভালো অভ্যাসের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি করে।

খাবার নয়, আচরণকে পুরস্কৃত করুন

ভালোভাবে খাওয়া বা টেবিলে শান্তভাবে বসার মতো ভালো আচরণকে পুরস্কৃত করুন, কিন্তু পুরস্কার হিসেবে মিষ্টি বা জাঙ্ক ফুড দেবেন না। খেলাধুলা বা বই পড়ার মতো অন্য কিছু দিয়ে পুরস্কৃত করতে পারেন।

ইতিবাচক প্রশংসা করুন

যখন আপনার বাচ্চা ভালোভাবে খাবে বা চেষ্টা করবে, তখন তাদের কাজের প্রশংসা করুন। “দারুণ খেয়েছ!” বা “তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছ!” এই ধরনের কথা তাদের উৎসাহিত করে।

অভ্যাস কেন গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে সাহায্য করবেন
একসাথে খাবার খাওয়া সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি, রোল মডেল দেখে শেখা পরিবারের সবার সাথে একসাথে বসে খেতে দিন
নিজ হাতে খাওয়া স্বাবলম্বী হওয়া, খাবার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো নরম টুকরো খাবার ও ছোট চামচ ব্যবহার করতে দিন
স্ক্রিন-মুক্ত পরিবেশ খাবারের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি, পুষ্টির সঠিক গ্রহণ খাওয়ার সময় মোবাইল/টিভি বন্ধ রাখুন
ধৈর্য ও প্রশংসা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ভুল করলে বকবেন না, ভালো কাজের প্রশংসা করুন

ধৈর্য ও ভালোবাসা: এই পথের সেরা সঙ্গী

Advertisement

আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বাচ্চাদের ভালো অভ্যাস শেখানোর পথে সবচেয়ে বড় দুটি অস্ত্র হলো ধৈর্য আর ভালোবাসা। অনেক সময় আমরা খুব দ্রুত ফলাফল চাই, আর যখন তা পাই না, তখন হতাশ হয়ে পড়ি বা রাগারাগি করি। কিন্তু শিশুদের মন খুব নরম আর সংবেদনশীল। জোর করে খাওয়ালে বা বকাঝকা করলে ওদের মনে খাবারের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হতে পারে। বরং ওদেরকে সময় দিন, ওদের ছোট ছোট ভুলগুলো ক্ষমা করুন। আমি নিজে দেখেছি, যখন আমি শান্ত আর হাসিমুখে ওর সাথে খাবার নিয়ে কথা বলতাম, তখন সে অনেক বেশি সহযোগী হত। ওদেরকে বোঝান যে খাওয়াটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু গল্পচ্ছলে, ধমকে নয়। মাঝে মাঝে ওরা খেতে না চাইলে জোর করবেন না, হয়ত ওদের খিদে নেই বা ওরা অসুস্থ বোধ করছে। তখন কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। প্রতিটি বাচ্চার শেখার ধরন ও গতি আলাদা। তাই নিজের বাচ্চার সাথে অন্য বাচ্চার তুলনা করবেন না। আপনার ভালোবাসা আর বিশ্বাস ওদেরকে ধীরে ধীরে সঠিক পথে নিয়ে আসবে। মনে রাখবেন, আজকের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই ওদের ভবিষ্যতের সুস্থ জীবনযাত্রার ভিত্তি তৈরি করবে।

শিশুদের ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত বুঝুন

শিশুরা যখন ক্ষুধার্ত না থাকে, তখন তারা মাথা নাড়তে পারে, খাবার নিয়ে খেলতে পারে বা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলতে পারে। এই সংকেতগুলো বুঝুন এবং জোর করে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।

নিয়মিত খাবার রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিন একই সময়ে শিশুকে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে তাদের শরীরে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ক্ষুধা পাবে এবং তারা সময়মতো খেতে শিখবে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, এটা খুবই কার্যকর একটা পদ্ধতি।

글을마치며

বাচ্চাদের ভালো খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাটা সত্যি একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এতে যেমন মা-বাবার ধৈর্য প্রয়োজন, তেমনই দরকার একটু কৌশল আর ভালোবাসা। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমরা ওদের ছোট ছোট পছন্দ-অপছন্দকে সম্মান করি আর খাবারের সময়টাকে আনন্দময় করে তুলি, তখন ওরা নিজেরাই আগ্রহ নিয়ে খেতে শেখে। এটা শুধু ওদের শারীরিক সুস্থতার জন্যই নয়, মানসিক বিকাশের জন্যও ভীষণ জরুরি। আশা করি আমার শেয়ার করা এই টিপসগুলো আপনাদের ছোট্ট সোনামণিদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে একটু হলেও সাহায্য করবে।

알아두면 쓸মো 있는 정보

১. খাবারের সময় মোবাইল বা টিভি পুরোপুরি বন্ধ রাখুন, এতে ওদের মনোযোগ খাবারের দিকে থাকবে।

২. নতুন খাবার introduce করার সময় পছন্দের খাবারের সাথে মিশিয়ে দিন, এতে ওরা সহজে গ্রহণ করবে।

৩. রঙিন ও আকর্ষণীয় উপায়ে খাবার পরিবেশন করুন, যা ওদের কৌতূহল বাড়াবে।

৪. নিজের হাতে খেতে উৎসাহিত করুন, এতে ওদের স্বাবলম্বী হওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

৫. ভালো আচরণের জন্য প্রশংসা করুন, তবে খাবার দিয়ে পুরস্কার দেবেন না।

Advertisement

중요 사항 정리

সবশেষে মনে রাখবেন, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এক রাতের কাজ নয়, বরং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা আর ভালোবাসার ফল। ওদের বয়স অনুযায়ী খাবার দিন, হাইড্রেটেড রাখুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমাতে দিন। আপনার ধৈর্য আর সঠিক গাইডেন্সই ওদের সুস্থ ও আনন্দময় ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: ছোট সোনামণিদের শান্তভাবে টেবিলে বসিয়ে খাওয়ানো কি সত্যিই সম্ভব? ওরা তো এক জায়গায় বসতেই চায় না!

উ: আরে বাবা, এই প্রশ্নটা আমার কাছে অজস্রবার এসেছে, আর সত্যি বলতে, আমিও যখন আমার বাচ্চাকে খাওয়াতে বসাতাম, তখন আমারও মনে হতো এটা একটা অসম্ভব কাজ! মনে হতো যেন টেবিলে বসিয়ে রাখাটা একটা যুদ্ধ জেতার মতো। তবে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এটা সম্ভব, তবে একটু কৌশলী হতে হয়। প্রথমত, খাওয়ার সময়টাকে মজার করে তুলুন। ওদের পছন্দের থালা-বাটি ব্যবহার করতে পারেন, অথবা খাবারের সময় ওদের প্রিয় একটা গল্প শোনাতে পারেন। আমি নিজে দেখেছি, যখন ওদের ছোট ছোট গল্প বলে বা মজার ছলে খাওয়ানো হয়, তখন ওরা বেশ আনন্দ পায়। আবার অনেক সময় ওদের পছন্দের খাবার তৈরি করার সময় একটু সাথে নিলে, যেমন – সবজি ধোয়া বা সালাদ মেশানো, তখন ওদের খাবারের প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়। ওরা ভাবে, “আরে!
এটা তো আমি বানিয়েছি!” এতে ওরা টেবিলে বসতে এবং নিজের হাতে খেতেও আগ্রহী হয়। একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন খাওয়ার জন্য, এতে ওরা অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন, ধৈর্য আর ভালোবাসা দিয়ে এই কাজটি করলে দেখবেন আপনার সোনামণিও হাসিমুখে টেবিলে বসে খাচ্ছে।

প্র: আমার বাচ্চা তো এটা খায় না, ওটা ছোঁয় না! খাবার নিয়ে বায়না সামলানোটা কি করে করবো?

উ: ওহ, এই বায়না! এই সমস্যাটা প্রত্যেক মা-বাবাকেই একবার না একবার মোকাবিলা করতে হয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, আমার ছোট্ট সোনাটাও কিছু খাবার একদমই মুখে তুলতে চাইতো না, আর তখন মনটা খুব খারাপ হয়ে যেত। আসলে ওদের বায়না সামলানোটা একটা আর্ট!
জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হয়, খাবারের প্রতি ওদের একটা বিতৃষ্ণা তৈরি হতে পারে। এর বদলে, আপনি ওদের সামনে বিভিন্ন রঙের ও স্বাদের খাবার অল্প অল্প করে পরিবেশন করুন। প্রতিদিন নতুন কিছু দিতে হবে না, বরং পরিচিত খাবারের সাথেই একটু নতুনত্ব যোগ করুন। যেমন, আপনি যদি সচরাচর ডাল-ভাত খাওয়ান, তাহলে মাঝে মাঝে ডাল দিয়ে অন্য কিছু তৈরি করতে পারেন। আবার, সবজি যদি খেতে না চায়, তাহলে সেগুলোকে একটু ভিন্ন স্টাইলে রান্না করে দেখুন, যেমন – সবজি দিয়ে ছোট ছোট চপ বা প্যানকেক। আমার মনে আছে, আমি যখন আমার ছেলেকে ব্রকলি খাওয়ানোর চেষ্টা করতাম, সে একেবারেই খেত না। পরে যখন ব্রকলি আর চিজ দিয়ে একটা ছোট স্যান্ডউইচ বানিয়ে দিলাম, সে আগ্রহ করে খেয়েছিল। ওদেরকে অপশন দিন, কিন্তু খুব বেশি নয়, যেমন – “আজ ডাল খাবে নাকি পনির?” এতে ওরা নিজেদের পছন্দটা কাজে লাগাতে পারে এবং মনে করে যে তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওদের খাবার নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করুন এবং ওরা যখন ভালো করে খায়, তখন প্রশংসা করতে ভুলবেন না।

প্র: আজকালকার বাচ্চারা মোবাইল বা টিভি ছাড়া খেতে চায় না। স্ক্রিন টাইম কমানোর উপায় কি?

উ: সত্যি বলতে কি, আজকাল এই সমস্যাটা যেন মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে! আমার নিজের বাড়িতেও এই সমস্যাটা ছিল, মোবাইল ছাড়া ওরা এক লোকমাও মুখে তুলতে চাইতো না। এই স্ক্রিন টাইম কমানোটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ, তবে অসম্ভব নয়। আমি নিজে দেখেছি, যখন আমরা খাবারের সময়টাতে পুরো পরিবার একসাথে হই, গল্প করি, হাসি-ঠাট্টা করি, তখন মোবাইল বা টিভির দিকে ওদের মন আর টানে না। আপনি খাবারের সময়টা পারিবারিক আড্ডার সময় হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। যেমন, দিনের বেলায় কী কী ঘটেছে, স্কুলের গল্প বা ওদের পছন্দের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। আমি আমার সন্তানকে খাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করতাম, “আজ স্কুলে নতুন কী শিখলে?” বা “তোমার বন্ধুদের সাথে কী মজার ঘটনা ঘটল?” এতে ওদের মনে হতো, খাওয়ার টেবিলটা শুধু খাওয়ার জায়গা নয়, গল্প করারও জায়গা। এছাড়াও, আপনি ওদের সাথে কিছু মজার খেলা খেলতে পারেন, যেমন – খাবারের নাম অনুমান করা বা রঙের খেলা। খাবার তৈরি করার সময় ওদের একটু সাহায্য নিতে পারেন, এতে ওরা খাবারের সাথে একটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনুভব করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা বড়রা যেন নিজেরা খাবারের সময় মোবাইল বা টিভি থেকে দূরে থাকি। কারণ বাচ্চারা আমাদের দেখেই শেখে। ওদের একটা ইতিবাচক উদাহরণ দেখালে দেখবেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ওরা স্ক্রিন ছাড়াই খেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। একটু ধৈর্য আর বুদ্ধি খাটালেই দেখবেন আপনার সোনামণি হাসিমুখে টেবিলে বসছে আর মোবাইল ছাড়াই পুরো খাবার শেষ করছে!

📚 তথ্যসূত্র